আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষকে টার্গেট করে অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। অনলাইনে টিকিট প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। চক্রটি অনলাইনে বিভিন্ন রুটে ট্রেনের টিকিটের বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। গ্রাহকরা আগ্রহী হয়ে টিকিট কিনতে চাইলে টাকার বিনিময়ে তাদের সরবরাহ করা হতো নকল টিকিট।
ট্রেনের টিকিটের বিপুল চাহিদার সুযোগে অভিনব পন্থায় এ প্রতারণা চক্রের দুই সদস্যকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আটক করেছে রেলওয়ে থানা (জিআরপি) পুলিশ। 'চলো যাই ডট কম' নামে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল চক্রটি। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- তানভির ও হিমেল। এসময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ট্রেনের ১৬টি টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা রেলওয়ে ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুশো বণিক।
রেলওয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, চলো যাই ডট কম নাম ব্যবহার করে একটি চক্র অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করে আসছিল। তারা গ্রাহকের কাছ থেকে আসল টিকিটের টাকা আদায় করলেও সরবরাহ করতো জাল টিকিট। দেখতে অবিকল আসল টিকিটের মতো হওয়ায় যাত্রীরা বিষয়টি বুঝতে পারতেন না।
আসল টিকিটের নামে জাল টিকিট বিক্রি করায় বিষয়টি নিয়ে যাত্রার দিন যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বেন। ফলে একই সিটে একাধিক যাত্রী বসতে গেলে বিপত্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এসআই রুশো বণিক বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দিনগত রাতে কমলপুর রেলস্টেশন থেকে জাল টিকিট বিক্রির ওই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা। তবে এ চক্রের মূলহোতা আহসান হাবীব পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কমলাপুরে আলাদা অভিযানে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন- রুবেল, হজরত আলী ও দুলাল মিয়া। এসআই রুশো বণিক এ বিষয়ে বলেন, এই তিনজনকে টিকিট কালোবাজারির দায়ে আটক করা হয়েছে। তারা আসল টিকিট সরবরাহ করলেও অবৈধ পন্থায় বাড়তি দামে টিকিট বিক্রি করছিলেন।
জাল টিকিট বিক্রি ও কালোবাজারির ঘটনায় সর্বমোট আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে আলাদা তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনসাধারণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
