গোপালগঞ্জে এসএসসির ফরম পূরণে ৬ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় জে.কে.এম.বি মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সমর রায় চৌধূরী এ অভিযোগ দায়ের করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান তাৎক্ষনিকভাবে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সমর রায় চৌধূরী বলেন, ২০১৮ সালের এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় স্কুলের ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৭৫ জন কৃতকার্য হয়। অকৃতকার্য হয় ১৭৫ জন। এসএসসির ফরম পূরণে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১৬৬৫ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে ১৮০০ টাকায় আদায় করতে বোর্ড থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা জারি করে। এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রধান শিক্ষক নির্মল সাহা অকৃতকার্যদের এসএসসির ফরম পূরণে ৬ হাজার টাকা আদায় করেছে।
প্রধান শিক্ষক নির্বাচনী পরীক্ষার বেশ কিছু দিন পর অকৃতকার্যদের গোপনে পরীক্ষা নিয়ে কৃতকার্য দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে ফরম পূরণ করে দিয়েছেন। কৃতকার্যদের মধ্যে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে ৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে ৩ হাজার ২ শ টাকা আদায় করেছেন। প্রতিবছর পরীক্ষা এলেই প্রধান শিক্ষক অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করেন বলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সমর রায় চৌধূরী অভিযোগ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই স্কুলের একাধিক এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, 'এসএসসির ফরম পূরণে প্রধান শিক্ষক আমাদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। আমাদের স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী গরীব ও অসহায়। তাদের অভিভাবকের অতিরিক্ত টাকা দিতে ধার দেনা করতে হয়েছে। এর আগে প্রধান শিক্ষক জেএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে ২৫০ টাকার স্থলে ৬০০ টাকা আদায় করেছে। এছাড়া জেএসসির প্রবেশপত্র বিতরণে ২৫০ টাকা করে আদায় করেছেন। পরীক্ষা আসলেই প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন কৌশলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ অন্যায় দেখার কেউ নেই।'
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নির্মল সাহা সব পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, 'স্থানীয় বিভিন্ন চাপের কারণে অকৃতকার্যদের ফরম পূরণের সুযোগ করে দিতে হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে।' অকৃতকার্যদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে কৃতকার্য করা হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
আরও পড়ুনঃ এখনো প্রস্তুতি শেষ করতে পারেনি বিএনপি
গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, 'অভিযোগ পাওয়ার পর মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করেছি।'
ইত্তেফাক/নূহু
