আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা
মরিচা পড়ে টিনের চাল ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও ফুটো হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের মধ্যে পানি পড়ে। আর ঝড়-বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন ঝুঁকি নিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৭০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীমন্তকাঠী এম এল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় ঐ বিদ্যালয় ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরেই কোনোরকম পাঠদান করা হচ্ছে। জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বড়ো ধরনের দুর্ঘটনাসহ কোমলমতি শিশুদের জীবননাশের কারণ হতে পারে। অবকাঠামোটি পুরাতন হওয়ায় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ শিশু উপযোগী তো নয়ই, বরং জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আর এভাবেই ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। একটু বাতাস হলেই শিক্ষার্থীরা ভয়ে পাশের ভবনটিতে গিয়ে অন্যদের ক্লাসরুমে গিয়ে আশ্রয় নেয়। কর্তৃপক্ষ বিষয়টির প্রতি নজর না দেওয়ায় ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ভীতিকর অবস্থায় ক্লাস করছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা যেখানে মানবসম্পদ তৈরি করছে, সেখানে অবহেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত নতুন ভবন বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকগণ।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিউটি শিকদার জানান, বিদ্যালয়ের মূল অবকাঠামোটি অনেক আগে কাঠ ও টিন দ্বারা নির্মিত ছিল। বর্তমানে অবকাঠামোটি পুরাতন হয়ে যাওয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে হেলে পড়ে। বর্তমানে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় বিঘ্ন হচ্ছে পাঠদান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুবিনুল ইসলাম জানান, “৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে এ বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালয়ে দুটি অবকাঠামো থাকলেও কাঠের তৈরি অবকাঠামোটি ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র আঘাতে হেলে পড়ে যায়। পাকা অবকাঠামোটিতে পর্যাপ্ত রুম না থাকায় কাঠের তৈরি পুরাতন এই ঘরটিতে ষষ্ঠ এবং নবম ও দশম শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। বর্তমানে কাঠ ও টিন দ্বারা নির্মিত অবকাঠামোটি বাইরে থেকে কয়েকটি বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। বিকল্প পাঠদান ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান চলছে। তবে অবকাঠামোর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ে রয়েছে আসবাবপত্র সংকট, বাউন্ডারী ওয়ালসহ নানা সমস্যা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আজও কোনো নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল বাশার তালুকদার জানান, “এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিনসেট ভবনটি ঘূর্ণিঝড় ‘ফণীর’ আঘাতে হেলে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা আছে এবং ঘূর্ণিঝড় ‘ফণীর’ পরে এটা ডিজি অফিসের তালিকায় প্রেরণ করা হয়েছে।”
