যশোর অফিস
দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্ উত্সব ঈদুল আজহা। সাধ আর সাধ্যের মধ্যে কোরবানি দেওয়ার জন্য অনেকের কেনা হয়ে গেছে পছন্দের পশু। কোরবানির পশু জবাই, চামড়া ছিলানো এবং মাংস কাটার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম কিনতে ছুটছেন কামারপাড়ায়। তাই কামারশালায় দম ফেলার ফুরসত নেই কারো।
যশোর জেলায় প্রায় সাড়ে ৩০০ কামার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে দেড় সহস্রাধিক মানুষ। পশু কোরবানির পর প্রয়োজন হয় ছুরি, চাপট, দা ও বঁটি। সারাবছর এসব জিনিসের ব্যবহার হলেও কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এর চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন যশোর সদরের রূপদিয়া, অভয়নগর, নওয়াপাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারের কামাররা। কামারশালাগুলোতে তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাতুড় আর লোহার ঠুং-ঠাং আওয়াজ। হাপরে আগুনের শিখায় তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। অনেকে আবার এসেছেন পুরাতন যন্ত্রপাতিগুলোকে শান দেওয়ার জন্য।
কাজের চাপ থাকলেও মজুরি নিয়ে সন্তুষ্ট নন যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারের বাবুল কর্মকার। তিনি বলেন, এখন কিছু আয় হলেও সারা বছর আমাদের অনেকটা বেকার থাকতে হয়। মনিরামপুরের কিশোর কুমার কর্মকার জানান, চাপাতি ৪০০ টাকা কেজি, বড় ছুরি ৩০০ টাকা কেজি, চামড়া ছড়ানো ছুরি ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা কেজি। তবে ভালো লোহা ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, লোহা, কয়লাসহ তৈরি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ কম থাকায় ছুরি, চাপট, দা-বঁটির দাম একটু বেশি।
তবে দা, বঁটি, ছুরি বা চাপটের দাম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের। তারা বলছেন, প্রতি বছর সব কামারশালাগুলোতে সবকিছুর দাম বেড়েই চলেছে। বাড়ি থেকে পুরানো দা, বঁটি এবং পশু জবাই করা ছুরি নিয়ে কামারের কাছে এসেছেন জালাল বিশ্বাস। তিনি বলেন, কোরবানির জন্য পছন্দ করে একটি গরু কিনেছি। এখন মাংস কাটাকাটির জন্য পুরনো এ সরঞ্জাম নিয়ে এসেছি কামারের কাছে। যশোর শহরের মোল্লাপাড়া এলাকার আনিসুর রহমান বলেন, দাম দর করে একটি চাপাতি নিয়েছি ৩০০ টাকায়। এটা দিয়ে সহজেই মাংস পৃথক করা যায় এবং হাড় কাটা যায়।
মাগুরায় কর্মব্যস্ত কামারপল্লি
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, ঈদুল আজহা সামনে রেখে মাগুরায় কামারপল্লি কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে। তাদের দম ফেলার সময় নেই। দিনরাত চলছে চাপাতি, ছুরি, দা, বঁটি ইত্যাদি তৈরির কাজ। বিক্রি হচ্ছে ভালো। বাড়তি আয়ে কামারদের মুখে হাসি ফুটেছে।
জানা গেছে, জেলার চার উপজেলা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখার বিভিন্ন এলাকায় কামাররা বসবাস করেন। সারাবছর তারা ছুরি, বঁটি, দা, কাটারিসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি ও মেরামত করে থাকেন। এদের সারাবছর কমবেশি কাজ হলেও মূলত ঈদুল আজহার সময় কাজ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ঈদের দিন প্রচুর পারিশ্রমিক চাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত কসাই না পাওয়ায় অনেকেই বাড়িতে নিজেরা পশু ছাড়িয়ে মাংস তৈরি করে থাকেন। তাই এ সময় দরকার পড়ে চাপাতি, দা ও ছুরির। আর সেইগুলো তৈরি করেন কামাররা। তারা লোহা আগুনে গরম করে পিটিয়ে তৈরি করেন চাপাতি, দা, ছুরি প্রভৃতি।
একজন কর্মকার সারাদিন কাজ করে ৪০০ টাকা। কোরবানির সময় এই আয় বেড়ে যায় এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এই সময় তাদের দম ফেলার সময় থাকে না। কামাররা এই সময়টার জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন।
