চট্টগ্রামে প্রিপেইড মিটারে গ্যাস সাশ্রয়

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:২৭

খরচ কমায় স্বস্তিতে আবাসিক গ্রাহকরা

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

আবাসিকে প্রিপেইড মিটার স্থাপনে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে গ্রাহকরা। এর ফলে গ্রাহকদের অর্ধেক টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। নগরীতে গ্যাসের ৬০ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। মিটারের কারণে এসব গ্রাহক থেকে কোম্পানির প্রতি মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমে গেছে। আগে চুলাভিত্তিক বিল আদায় করা হতো। তবে এখনো অধিকাংশ গ্রাহক মিটারবিহীন বিল পরিশোধ করছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের চুলাভিত্তিক বর্ধিত মূল্যে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

চট্টগ্রামে আবাসিকে গ্যাসের ৫ লাখ ৯৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৬০ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে। গত মার্চ মাসে প্রিপেইড মিটার পুরোপুরি চালু করা হয়েছে। নগরীর নাসিরাবাদ, খুলশী, কাজির দেউড়ি, মেহেদীবাগ, ষোলশহর, চান্দগাঁও, চকবাজার, হালিশহর, আগ্রাবাদ, আন্দরকিল্লা ও লালখান বাজার এলাকাসহ নগরীর কয়েকটি স্থানে প্রথম দফায় গ্যাসের প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। গ্রাহকরা প্রিপেইড কার্ড রিচার্জ করার জন্য কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি ১০টি রিচার্জ কেন্দ্র চালু করেছে। জানা যায়, গ্যাসের প্রিপেইড মিটারের কারণে গ্রাহকরা বেশ লাভবান হয়েছে। তাদের আগে চুলাপ্রতি ৭৫০/৮০০ টাকা পরিশোধ করতে হতো। তবে গত জুলাই থেকে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকদের এক চুলা ৯২৫ টাকা ও দুই চুলা ৯৭৫ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এক জন গ্রাহক মিনিমাম ৪০ ঘনমিটার থেকে ৮৮ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করেন। ৮৮ ঘনমিটার গ্যাসের জন্য আগে এক জন গ্রাহককে ৮০০ টাকা বিল পরিশোধ করতে হতো। এখন ৯৭৫ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ফলে গ্যাসের ব্যবহার না বাড়লেও মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে। নগরীর দিদার মার্কেট এলাকার গ্রাহক স্কুল শিক্ষিকা জয়শ্রী জানান, তার ৩০০ টাকা রিচার্জ করলে এক মাস চলে যাচ্ছে। অথচ আগে ৮০০ টাকা বিল পরিশোধ করতে হতো।

নগরীর লাভ লেইন এলাকার গ্রাহক খুরশিদা হক জানান, প্রিপেইড মিটার চালুর পর তার প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। আগে চুলাভিত্তিক বিল পরিশোধ করতেন। ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকার মাসুদুল আলম জানান, তার ৫০০ টাকা রিচার্জ করলে এক মাস অথবা বেশি সময় ব্যবহার করা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ও কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির জিএম (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী সারওয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, প্রিপেইড মিটারের কারণে এসব গ্রাহক থেকে ৫০ শতাংশ রাজস্ব আয় কম হচ্ছে। আর গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ব্যয় ২২২ কোটি টাকা ধরা হলেও ব্যয় হয়েছে ১৪৯ কোটি টাকা। এখন আরো ২ লাখ গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার জন্য আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।’