সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তের ওপারে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ গত কয়েকদিন ধরে পড়ে আছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। পরিবারের এই দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয়সূত্রের বরাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তি ইতোপূর্বে সুপারি চুরিসহ অন্যান্য চোরাচালানির সঙ্গে জড়িত।
রোববার (৫ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বিজিবি সদর দপ্তরের এর পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
একটি সূত্রের বরাতে বিজিবি সদর দপ্তরের ওই বার্তায় বলা হয়েছে, 'গত ১ এপ্রিল বিকেলে, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উৎমা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ৪-৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি সুপারি চুরির উদ্দেশ্যে আনুমানিক ২ থেকে ৩ কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে রাজন টিলা, খাসিয়া পল্লী এলাকায় প্রবেশ করে। ওই সময় সুপারি চুরির একপর্যায়ে স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকদের (খাসিয়া) সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশি চোরাকারবারিরা আহত হয় বলে জানা যায়।'
নিখোঁজ সাদ্দামের পরিচয় উল্লেখ করে বিজিবির বার্তায় আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষের পর তারা (বাংলাদেশিরা) ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে আসার সময় অন্যান্যদের সহায়তায় একজন আহত নাগরিককে নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হলেও, সঙ্গীয়দের ভাষ্যমতে অপরজন (সাদ্দাম) নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ বাংলাদেশির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্তে ভারতীয় বর্ডার গার্ডের (বিএসএফ) সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাছাড়া এই ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবিকে জানাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে বিএসএফ।
এদিকে সাদ্দামের পরিবারে ভাষ্য, বন্ধুরাসহ সীমান্তের ওপারে গিয়েছিলেন সাদ্দাম। এরপর কোমর ও পায়ে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সাদ্দামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার যুবক সাদ্দাম হোসেন আরও তিনজনের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি আর ফেরেননি। তার সঙ্গে যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। ওই তিনজনের একজন সাদ্দামের বন্ধু আবু বক্কর, তিনি শুক্রবার রাতে সাদ্দামের পরিবারকে বিষয়টি জানান।
নিহত সাদ্দামের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, গত বুধবার সাদ্দাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার মোবাইল সঙ্গে নেয়নি। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম সাদ্দাম হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে। পরে জানতে পারি, অন্যদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছে সে।
নিজামের দাবি, শুনেছি আমার ভাইয়ের কোমর ও পায়ে গুলি করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিজাম উদ্দিন আরও জানান, শনিবার দুপুরে সাদ্দাম নিখোঁজ রয়েছেন জানিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, জেনেছি লাশ ওভাবেই সীমান্তের ওপারে পড়ে আছে। যেহেতু বিষয়টি সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়। মরদেহ আনা হলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।
সিলেট বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর বিজিবি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আমরা বিএসএফের কাছে তাদের সীমান্ত এলাকায় কোনো মরদেহ পড়ে আছে কি না, জানতে চেয়েছি। তবে বিএসএফ এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
বিজিবি কর্মকর্তা নাজমুল হক আরও বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করতে সচেতন করা হয়েছে।
