একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান। সেখানে অসংখ্য দক্ষ-অদক্ষ নারী-পুরুষ কর্মরত। তাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। প্রতিবছর দেশের জাতীয় রপ্তানি আয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় এসব রপ্তানি পণ্যের মূল্য। পরিবার-পরিজনের জন্য তারা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে।
প্রতিষ্ঠানটির আছে ২২ হাজার ৬৫১ বর্গফুট জায়গার ওপর গড়ে ওঠা দুটি হাসপাতাল ভবন। সেখানে নারী ও শিশুদের চিকিৎসা হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। গ্রামীণ অসহায় মানুষদের জন্য এই হাসপাতাল শুধু সেবা নয়, আশীর্বাদ। কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্যও রয়েছে এ ধরনের ৬০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল। সেখানেও উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে।
রাজাপুরের একটি মাদ্রাসায় রয়েছে অসচ্ছল ৬৪০ জন শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষা, আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা। প্রতিবছর হাজার হাজার শীতার্ত মানুষ পান শীতবস্ত্র। ঈদে অসহায় নারী-পুরুষরা পান শাড়ি ও লুঙ্গি।
এসব কর্মকাণ্ড এখন থমকে আছে। কারণ এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে ছিল দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘নাসা গ্রুপ’এবং প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম মজুমদার। তার নিরলস পরিশ্রম আর নিষ্ঠায় ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত নাসা গ্রুপ দক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিল্পের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়। ৩৪টি কারখানার সমন্বিত এই গ্রুপে কর্মী সংখ্যা ছিল ৩০ হাজারেরও বেশি।
২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন দেশের অন্যতম শিল্প উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম মজুমদার। তার গ্রেপ্তারের পরে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় তার পরিচালিত প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান। এক সময়ের ৩০ হাজার কর্মীর নাসা গ্রুপের বর্তমানে কর্মী সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় এক হাজারে। কর্মহীন অসংখ্য মানুষ এখন নিদারুণ অসহায়ত্বের মধ্যে দিন যাপন করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন নাসা গ্রুপের শ্রমিকরা।
নজরুল ইসলাম মজুমদার প্রতিষ্ঠিত বিনামূল্যের হাসপাতালগুলোও এখন স্থবির প্রায়। চিকিৎসা সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ব্যাহত হচ্ছে রেহিঙ্গাদের জন্য পরিচালিত বিনামূল্যের ৬০ শয্যার হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম। মাদ্রাসার এক হাজার শিক্ষার্থী এরই মধ্যে মাদ্রাসা থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ভবিষ্যতও এখন অনিশ্চিত। প্রতিবছর শীতে কিংবা ঈদে অসংখ্য অসহায় মানুষ এখন তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য নজরুল সাহেবকে খুবই প্রয়োজন।
শ্রমিকরা জানান, ২০২৪ সালের পহেলা অক্টোবর তাদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জুমদার গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তারা প্রচণ্ড দৈন্য অবস্থায় দিন পার করছেন। এতো পরিশ্রম, এতো কষ্টের প্রতিষ্ঠান কেবল তাদের চেয়ারম্যান জেলে থাকায় এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একজন মানুষের অনুপস্থিতি অনিশ্চিত করে তুলেছে অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যৎ। সেই সঙ্গে দেশের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিও এখন হুমকির মুখে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটিই ছিল এক সময় দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে তাদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের মুক্তির জন্য আবেদন জানান। এ সময় তাদের কণ্ঠে ছিল বাঁচার আকুতি। পরিবারকে বাঁচানোর আর্তনাদ।
তাই সার্বিক বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বেকার সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
