কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ দোকানপাট ও মসজিদ ভাঙচুরসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় পৌর শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকার মসজিদ বাড়ির যুবকদের সাথে পলাশ সিনেমা হল মোড়ের যুবকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে আবারও সন্ধ্যা ৭টায় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত ৯টার দিকে ভৈরব থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে টহল দেন।
এই সংঘর্ষে রিয়াদ মিয়া (২৩) , অনিক মিয়া (১৬), সাজিম মিয়া (১৫), রুহান (১৫), মুশকত (১৮), রুহান মিয়া (১৪), সজিব মিয়া (১৮), সাইমন মিয়া (১৯), ফাহিম মিয়া (১৪), সাইমন মিয়া (১৮), শাওন মিয়া (১৮)সহ উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়েছে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ঘোড়াকান্দা এলাকার মসজিদ বাড়ির যুবকদের সাথে পলাশ সিনেমা হল মোড়ের যুবকদের মধ্যে ফেসবুকে উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়াকে নিয়ে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছিল।
গতকাল রোববার বিকালে ঘোড়াকান্দা বালুর মাঠে পলাশ সিনেমা হল মোড়ের সাইমনের সাথে মসজিদ বাড়ির মুসকতের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সাইমনকে মারধর করে মসজিদ বাড়ির যুবকেরা। মারামারির বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে দুইপক্ষ দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইট পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় সংঘর্ষ ঘোড়াকান্দা মসজিদসহ বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় উভয়পক্ষের ৪০/৫০ জন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে ঘোড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা দিনার মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত দুই পাড়ার যুবকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখছি। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। আজকে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ও আগে থেকে দুইপক্ষের উত্তেজনাকে পুঁজি দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। আমরা চাই একই এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে দ্রুত সমস্যা সমাধান করা হোক।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। যতটুকু জেনেছি ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফয়জুল ইসলাম জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এখনো কোন পক্ষের অভিযোগ পায়নি। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
