শরীয়তপুর সদরের আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে বের হওয়া খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ৪০০ বস্তা সরকারি চাল আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় চালগুলো জব্দ করে গুদামে সংরক্ষণ করেছে। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলা খাদ্য গুদামটি আংগারিয়া বাজারে অবস্থিত। ওই খাদ্য গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪০০ বস্তা চাল নিয়ে একটি ট্রাক জেলা শহরের ওপর দিয়ে জাজিরার দিকে যাচ্ছিল। সোমবার দুপুরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে চালসহ ওই ট্রাকটি পালং মডেল থানার সামনের সড়কে আটকে দেয়। তখন ট্রাকে থাকা লোকজন ওই চালের কোনো চালান দেখাতে পারেনি। পরে স্থানীয় এক খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলারের নামে বরাদ্দের একটি চালান নিয়ে হাজির হন সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
ওই চালানটি সঠিক কিনা তা নিশ্চিত না হওয়ায় স্থানীয়রা চালসহ ট্রাকটি নিতে দেয়নি। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রাকটি নিয়ে চালক আংগারিয়া খাদ্য গুদামের দিকে রওনা দেন। তখন স্থানীয় জনতা ওই ট্রাকটি আবারও শহরের চৌরঙ্গী এলাকায় আটকে দেয়। সর্বশেষ গভীর রাতে চালসহ ট্রাকটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ট্রাকে থাকা চালগুলো পরিমাপ করে জব্দ করেছেন।
পরে ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠনের খবর জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- গোসাইরহাট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তরিকুল ইসলাম, জাজিরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ রাশেদ উজ্জামান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, ৪০০ বস্তা চাল নিয়ে যাওয়ার সময় চালসহ ট্রাক আটকে দিয়েছিল স্থানীয়রা। একজন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলারের নামে চালগুলো বরাদ্দ হয়েছে এমন কাগজপত্র পেয়েছি। তারপরও ঘটনাটি তদন্তের জন্য চালগুলো জব্দ করে রাখা হয়েছে। আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে চালগুলো বের হয়েছে। মজুদ খাদ্যশস্য ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড যাচাইসহ চাল কিভাবে ও কোন খাতে গুদাম থেকে বের হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ কারণে ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

