সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটছে ফিফা!

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪৭

ফিফা বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। এর মধ্যেই যাতায়াত ভাড়ার এক নজিরবিহীন নৈরাজ্য সামনে এসেছে। ফিফার ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল। মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকে নিউ ইয়র্ক পেন স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই আকাশচুম্বী ভাড়ার বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় গভর্নর সরাসরি ফিফাকে ধুয়ে দিয়েছেন।

একটি ভিডিও বার্তায় শেরিল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি এই বৈষম্য মেনে নেবেন না। তার প্রশাসন এমন এক চুক্তি পেয়েছে, যেখানে বিশ্বকাপের যাতায়াত বাবদ ফিফা এক পয়সাও দিচ্ছে না। অথচ প্রতিটি ম্যাচের দিন অন্তত ৪০ হাজার ভক্তকে নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য নিউ জার্সি ট্রানজিটের খরচ হবে প্রায় ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গভর্নর শেরিল ফিফার বিপুল লাভের কথা উল্লেখ করে তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করতে যাচ্ছে। এমনকি ফাইনালের একটি টিকিটের দাম রাখা হচ্ছে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত। এমতাবস্থায় সাধারণ যাত্রীদের পকেট কেটে সেই যাতায়াত খরচ মেটানোকে তিনি 'অবিচার' বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে ফিফার উচিত এই যাতায়াত ভাড়ার দায়িত্ব নেওয়া। 

বর্তমান হিসেবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকা থেকে পেন স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া মাত্র ১৩ ডলারের নিচে। সেই ভাড়া বিশ্বকাপের দিনে ১০০ ডলারের বেশি হয়ে যাওয়াটা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হবে। শেরিল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিউ জার্সির নিত্যদিনের যাত্রীদের তিনি এই বিশাল বিলের বোঝা বইতে দেবেন না। ফিফা যদি টাকা না দেয়, তাহলে বিকল্প কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এবারের বিশ্বকাপে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সেই দিনগুলোতে পেন স্টেশনে যাতায়াতব্যবস্থার ওপর ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। শুধু যারা বিশ্বকাপের টিকিটধারী দর্শক তারাই নির্দিষ্ট ট্রেনের সুবিধা পাবেন। 

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্টেডিয়াম-সংলগ্ন মেডোল্যান্ডস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সাধারণ পার্কিংও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অ্যাথলেটিকসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বর্ধিত ভাড়ার ক্ষেত্রে প্রবীণ, শিশু বা প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য কোনো ছাড়ের ব্যবস্থা নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ