প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থীরা, আমার শুভেচ্ছা নিও। তোমাদের পরীক্ষার আর বেশি দিন বাকি নেই। পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেরই মনে ভয় বা আতঙ্ক থাকে। অভিভাবকদের মধ্যেও থাকে বিশেষ উৎকণ্ঠা। এই আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা কাটানোর জন্যই আমার এই লেখা।
তোমাদের রিভিশন এখন নিশ্চয়ই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ সময়ে শুধু পৃষ্ঠা উল্টে পড়াগুলো রিভিশন দেবে, যাতে কী কী পড়েছ তা মস্তিষ্কে আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়।
পরীক্ষার আগের রাতে ও পরীক্ষা চলাকালীন দিনগুলোতে খাবার-দাবারের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। পরীক্ষার আগের রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার পরামর্শ দিই, যাতে শান্ত মনে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে পারো এবং ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে পারো। অভিভাবকরা লক্ষ্য রাখবেন, পরীক্ষার্থী যেন সুস্থভাবে পরীক্ষার হলে যেতে পারে।
প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশনপত্র, প্রয়োজনীয় কলম-পেন্সিল, রাবার এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসগুলো আগের রাতে ঠিকঠাক করে রাখবে, যাতে পরীক্ষার দিন সকালে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া করতে না হয়। ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বাসা থেকে বের হতে হবে, যেন পরীক্ষার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারো। পরীক্ষার প্রথম দিন অবশ্যই একটু আগে যাবে, যাতে সিট কোন কক্ষে পড়েছে তা খুঁজে পেতে বেগ পেতে না হয়।
‘আমি পারব’—এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে যদি কেউ পরীক্ষাকক্ষে ঢোকে, তাহলে যে প্রশ্নই আসুক না কেন, সে উত্তর দিতে পারবে। শিক্ষার্থীরা যদি পরীক্ষা ভীতি না রেখে পরীক্ষার হলে বসতে পারে, তাহলে আমার মনে হয় তারা ভালো নম্বর পেতে পারে।
পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই প্রশ্ন পাওয়ার পর কতগুলো প্রশ্ন আছে এবং কতগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, সেই অনুযায়ী সময় ভাগ করে লিখতে হবে। একটি প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় নিয়ে খুব ভালোভাবে লিখে অন্যগুলো তাড়াহুড়ো করে লিখতে গিয়ে খারাপ করার চেয়ে বরং সব প্রশ্ন সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে যতটা সম্ভব ভালোভাবে লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে। প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী সব প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে লিখে আসতে হবে।
প্রশ্নের উত্তর গুছিয়ে লিখতে পারলে পরীক্ষক বুঝতে পারবেন পরীক্ষার্থী প্রশ্নটি বুঝেছে কি না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাতের লেখা সুন্দর ও বানান সঠিক হওয়া। পরীক্ষার খাতায় হাতের লেখা স্পষ্ট হলে পরীক্ষকের জন্য খাতা পড়া সহজ হয়। বানান ভুল হলে পরীক্ষকের কাছে বিষয়টি বিব্রতকর মনে হতে পারে, ফলে নম্বর কমে যেতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাতার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।
আশা করি, উপরের বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা যদি মেনে চলে এবং অভিভাবকরা যদি তাদের সঠিকভাবে উৎসাহ দেন, তাহলে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।
লেখক: অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত), নওয়াব হাবিবুল্লাহ্ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
