কিংসের সুখের ঘরে অশান্তি

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৩

বসুন্ধরা কিংসের ঘরে অশান্তি চলছে। এত দিন যেটা নীরবে চাপা পড়েছিল, সেটা এখন আগ্নেয়েগিরির মতো বেরিয়ে আসছে। ঘরে শান্তি নেই। কর্মকর্তাদের এক পাশে সরিয়ে রাখলে বাদ বাকি যারা রয়েছে তারা শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না। সেই অশান্তি গিয়ে পড়ছে ফুটবল মাঠের লড়াইয়ে। সব দলকে ছাপিয়ে এগিয়ে চলা বসুন্ধরা কিংস এখন পয়েন্ট টেবিলে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। ঘরের আগুন নেভাতে চেষ্টা করছেন ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান। তাতে আগুন কতটা নিভবে বলাও কঠিন। দেশি-বিদেশি ফুটবলাররা আশ্বস্ত হচ্ছেন তারা সমাধান পাবেন।

ঘরে অশান্তির বড় কারণ হচ্ছে অর্থ। ফুটবলাররা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। দেশি কিংবা বিদেশি, সবাই একই কারণে মন খারাপ করেছেন। নিয়মিত বেতন নেই, মাসের পর মাস চলে যাচ্ছে। কিংসের অশান্তির আগুন প্রথমে নিজেদের ভেতরে থাকলেও সেটি প্রথম প্রকাশ পায় অনুশীলনে। খেলোয়াড়রা অনুশীলন বয়কট করেন। তাতে একটা সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বেঁকে বসেছিলেন বিদেশি ফুটবলার। 

বসুন্ধরা কিংসে তিন জন বিদেশি ফুটবলার, নাইজেরিয়ান এমানুয়েল সানডে, ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন গোমেজ এবং নাইজেরিয়ান এমানুয়েল টনি। বিদেশি ফুটবলাররা অনেক দিন ধরেই তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে অনুরোধ করে আসছিলেন। কিন্তু ক্লাব থেকে সাড়া না পেয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তারা ম্যাচ খেলবে না। গত শুক্রবার মুন্সীগঞ্জে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে বসুন্ধরা কিংস তাদের বিদেশি ফুটবলারদের ছাড়াই খেলেছে। 

বীরদর্পে এগিয়ে থাকা কিংসকে ঠেকিয়ে দিয়েছে রহমতগঞ্জ। ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ১৩ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের গোলে এগিয়ে থাকা কিংসের জালে গোল হয়েছে ৪২ মিনিটে। এক ড্র-ই কিংসের সর্বনাশ করে দিয়েছে। লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরিকল্পনায় রশি টানাটানি লাগিয়ে দিয়েছে আবাহনী এবং ফর্টিস এফসি। 

বিদেশি ফুটবলাররা এমন এক সময় ম্যাচ বয়কট করল, যেখান থেকে বিপদ কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে গেল। ক্লাবের সূত্রে জানা গেছে বিদেশিদেরকে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তারা মনে করেছে বৃহস্পতিবার পারিশ্রমিক পাবেন। সেখানেই ভুলবুঝাবুঝি হয়েছে বলে দাবি কিংস সংশ্লিষ্টদের।

দেশি ফুটবলাররা ম্যাচ বয়কট না করলেও তারা অনুশীলন বয়কট করে প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন। সেটিও একটা সুরাহা করার পথে এগিয়েছে বলে ক্লাব সূত্রের দাবি। 'বিষয়টা সমাধানের জন্য ক্লাবের সভাপতি (ইমরুল হাসান) কথা বলছেন। তার ওপর আস্থা রয়েছে।' তবে ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের দাবি বকেয়া পারিশ্রমিক ইস্যুতে দেশি ফুটবলাররা বিদেশি ফুটবলারদেরকে সামনে ঠেলে দিচ্ছেন।'

বকেয়া পারিশ্রমিক ইস্যুতে বসুন্ধরা কিংস যে শান্তিতে নেই, সেটিও পরিষ্কার। ফিফার টেবিলে বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ১০টা অভিযোগ জমা রয়েছে। কোচ এবং খেলোয়াড়দের করা অভিযোগ। পারিশ্রমিক না পেলেই সাধারণত ফিফার টেবিলে কোচ, খেলোয়াড়রা অভিযোগ করেন। অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ক্লাব কোনো খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করাতে পারে না।

গত ১০ বছর ধরে বসুন্ধরা কিংস বড় বাজেটে ফুটবল দল গড়ে আসছে। মাঠের একাদশের বাইরে রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী। রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের নিয়ে আরেকটি সেরা একাদশ গড়া যায়। খেলোয়াড়রা নিয়মিত খেলতে পারবেন কিনা, সেই নিশ্চয়তা খোঁজেননি। লোভনীয় পারিশ্রমিক পেয়ে বসুন্ধরা কিংসে নাম লিখিয়ে মৌসুম কাটিয়েছেন বেঞ্চে। তাতেও আফসোস করেনি। টাকা পাওয়াটাই তাদের কাছে মুখ্য ছিল। গেম টাইম কতটা তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করেননি। কারণ মোটা অংকের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসত। যাদের কাছে বসুন্ধরা কিংস ছিল সুখের ঘর, তাদের কাছে সেই ঘর এখন দুঃখের ঘরে পরিণত হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ