প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিবাদ, প্রতিবেদকের বক্তব্য

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৬

‘ভুয়া নথিতে চাকরির অভিযোগ, বিমানের ৮ পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্ত’ শিরোনামে ইত্তেফাক অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ৯ মার্চ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ব্যাখ্যা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে আপনার পত্রিকায় “ভুয়া নথিতে চাকরির অভিযোগ বিমানের ৮ পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্ত” শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সকল গণমাধ্যমের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, যা আপনার পত্রিকায় প্রেরণ করা হয়েছিল। উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, পাইলট লাইসেন্সিং ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের একমাত্র নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হলো বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) এবং বিষয়টি বর্তমানে তাদের নিকট পর্যালোচনার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে বিমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অবস্থান ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত সংবাদটিতে মূলত একটি অজ্ঞাতনামা ইমেইল ও অনুমাননির্ভর তথ্যের ভিত্তিতে কিছু বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। অথচ এ সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে সংবাদ প্রকাশ করাকে আমরা গভীরভাবে অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিতে বাধ্য হচ্ছি। এ ধরনের যাচাইবিহীন সংবাদ প্রতিবেদন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিমান কর্মকর্তাদের পেশাগত সুনাম ও মর্যাদার হানিকারক এবং পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
উক্ত প্রতিবেদনটি অত্যন্ত সতর্কতা ও পেশাগত দায়িত্ববোধের সঙ্গে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপনে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং একটি ইমেইল যোগাযোগকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করেই সংবাদের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় তা গণমাধ্যমে তুলে ধরা জরুরি মনে করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জানার অধিকার এবং সংশ্লিষ্ট খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

বিষয়টি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তাধীন। তাই তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। এ কারণে প্রতিবেদক বিষয়টির অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং নতুন কোনো তথ্য বা অগ্রগতি পাওয়া গেলে তা যথাসময়ে হালনাগাদ আকারে প্রকাশ করবে।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করা নয়। বরং সম্ভাব্য অনিয়ম বা অসঙ্গতির বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট খাতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

ইত্তেফাক/এএইচপি