একটি পণ্যের গায়ে যত লেখা থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে অস্পষ্ট লেখা হলো পণ্যের মেয়াদ সংক্রান্ত লেখাগুলো। একটি সিল ব্যবহার করে এমনভাবে লেখা হয়, যা প্রতারণারই কৌশল। প্রিন্টেড অক্ষর না হওয়ায় সিলের কারণে অক্ষরগুলো লেপটে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে লেগে যায় যাতে করে তিনকে ছয় আর ছয়কে নয় ভাবার মতোই অবস্থা দাঁড়ায়। এমন সিল ভোক্তা অধিকারকে ডুবিয়েছে শতভাগ!
একজন ক্রেতা অভিযোগ করে বলছিলেন এমনটাই। একটি কোমল পানীয় অর্ধেক খাওয়ার পর মেয়াদ দেখতে গিয়েই হলো যত সমস্যা। কোনোভাবেই যখন সমাধান পাওয়া যাচ্ছিল না তখন ঐ তারিখে আসা ঐ লটের অন্য কোমল পানীয়গুলোর সঙ্গে তারিখ মিলিয়ে দেখা গেল তিন মাস আগেই চলে গেছে মেয়াদ! এরকম সমস্যায় পড়েছিলাম আমিও। কিছুদিন আগে নামিদামি কোম্পানির বিস্কুটের প্যাকেট কিনে আনার পর বাসায় এসে দেখলাম মেয়াদের তারিখ বোঝা যাচ্ছে না। সিলের জায়গাটি পুরো ঝাপসা হয়ে আছে। বিস্কুটের প্যাকেট খুলে দেখলাম বিস্কুট আর্দ্র হয়ে গিয়েছে। পরে দোকানে নিয়ে গিয়ে যখন ঐ কোম্পানির বিস্কুটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলো, দেখা গেল মেয়াদ চলে গেছে আরো দুমাস আগেই!
এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। সিল না দিয়ে মনোগ্রামের মূল কাগজে প্রিন্টেড ও স্পষ্ট লেখা চাই সব পণ্যে। যদি এমনটা সম্ভব না হয় তবে কখনোই নিরাপদ খাদ্যের কর্মসূচিগুলো আলোর মুখ দেখতে পারবে না। আশা করি বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।
সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর
