ফেসবুকে আপত্তিকর ভিডিও, ক্ষোভ-লজ্জায় ছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ২২:১০

 ‘আমার নামে মিথ্যা ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ার জন্য লিখলাম। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী (তদন্তের স্বার্থে চিরকুটে লেখা নামগুলো প্রকাশ করা যাচ্ছে না) ওরা। তাই আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম। আমি ওদের বিচার চাই, যারা আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিছে।’

ফেসবুকে আপত্তিকর ভিডিও আপলোড করায় ক্ষোভে-লজ্জায় এভাবেই অপবাদকারীদের বিচার চেয়ে চিরকুট লিখে স্বর্ণা আক্তার (১৮) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরযমুনা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্বর্ণার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যার আগে তার লিখে যাওয়া চিরকুটটি পুলিশের হাতে রয়েছে।

নিহত স্বর্ণা চরযমুনা গ্রামের নাসির উদ্দিন সিকদারের মেয়ে এবং উপজেলার খালগোড়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পরিবারের লোকজন জানায়, নিজ ঘরের মধ্যে পরিবারের অগোচরে স্বর্ণা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে স্বর্ণার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে গতকাল সকাল ১০টার দিকে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন বখাটে স্বর্ণার নামে আপত্তিকর কিছু ছবি ও ভিডিও আপলোড করে, যা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।                এই অপবাদ সইতে না পেরে স্বর্ণা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

স্বর্ণার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খালগোড়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসেন শাহিন বলেন, ‘ওর একটি ভিডিওর কথা শুনতেছি, আমি দেখিনি।’

নিহত স্বর্ণার বাবা নাসির উদ্দিন সিকদার বলেন, ‘আপনারা যা পাইছেন, আমিও ওই পর্যন্ত জানি। এখন কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা তা জানি না। কীভাবে কী হইছে, আমি কিছু কইতে পারি না।  বাড়ি গিয়ে ভাইসহ অন্যদের সঙ্গে আলাপ করে মামলার সিদ্ধান্ত নিব।’

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি আলী আহম্মেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। স্বর্ণার লিখে যাওয়া একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবার মামলা করলে মামলা নেওয়া হবে।’