সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভেঙেছে দুটি বাঁধ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২২

সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল নামছে। এদিকে পানির চাপে দুই উপজেলায় দুটি বাঁধ ভেঙে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। কৃষকের চোখের সামনেই জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অনেকটা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন হাওরের কৃষকেরা। বৈরী আবহাওয়া, হাওরে পানির চাপ, বজ্রপাত আতঙ্কের মধ্যে ধান কাটা শ্রমিকের সংকটসহ নানা কারণে সংকট গভীর হয়েছে। সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালের ভারী বৃষ্টিতে অনেক হাওরের জমির ধান তলিয়ে গেছে। আবার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের শুকানোর খলায় রাখা ধানও নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ওখানে ১১৪ হেক্টর জমি রয়েছে। এরমধ্যে ৪০ হেক্টর কাটা হয়েছে। তবে পানি আটকাতে স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন।  সবকিছুই এখন প্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোও চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আগামী দুই দিনও অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে উজানের পাহাড়ি ঢল নামবে। হাওরের জন্য আগামী দুই দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরপর হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকেরা মাঠে আছেন। চেষ্টা করছেন ধান তোলার। তারাও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এখন সবকিছুই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে।’

জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরপাড়ের দাসনোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরণ দাস (৬০) জানান, সোমবার দিনেও জমিতে পাকা ধান রেখে গেছেন। কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে সর্বনাশ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে এসে দেখেন, জমির সব ধান তলিয়ে গেছে। ১৬ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র চার বিঘা জমির ধান তুলতে পেরেছেন।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে অনেক হাওরে আগেই জলাবদ্ধতা ছিল। অনেক ধানের ক্ষতি হয়েছে। এখন ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ধান কাটা-মাড়াই, শুকানোর সুবিধা নেই। এর মধ্যে ধান কাটা শ্রমিকের সংকট আছে। ধানের মায়ায় বন্যা, ভারী বৃষ্টি আর বজ্রপাত আতঙ্ক মাথায় নিয়ে হাওরে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না।

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জের হাওর ও নদীতে পানি বাড়ছে। হাওরের বিভিন্ন ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন যেকোনো সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে ফসলহানি হতে পারে। তাই সব বাঁধে পাহারার ব্যবস্থা করার জন্য সব প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

ইত্তেফাক/এসএইচ