জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন অথচ এখন নিজের জীবনযুদ্ধে হারতে বসেছেন মুক্তিযোদ্ধা সলেমান শেখ (৭৩)। স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি মেলেনি তার। দারিদ্র্য ও অসুস্থতা নিয়ে বহুকষ্টে কোনোরকম দিন পার করছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারি ইউনিয়নের চাওচা গ্রামে এই দরিদ্র ও অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গেলে তিনি তার অসহায়ত্ত্বের কথা বলেন। পুরনো জীর্ণ শীর্ণ ঘরে পরিবার নিয়ে কোনো রকম বসবাস করছেন তিনি। বৃষ্টি এলে পুরো ঘর পানিতে ভেসে যায়।
সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিলেও সলেমান শেখের কপালে তা জোটেনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শারীরিকভাবে অসুস্থ্য থাকলেও খোঁজ নেয়নি কেউ।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সলেমান শেখ বলেন, 'বিগত দিনে আমি সরকারের কাছ থেকে কোনরকম সুযোগ-সুবিধা পাইনি। কেউ খোঁজ খবরও নেয় নাই। আমাদের সাবেক মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার ফিরোজ খানও কোন খোঁজখবর নেয় নাই। আমি তার কছে অনেকবার গিয়েছি। কোন সাড়া পাই নাই। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাজ চলছে। আমার অনুরোধ তিনি সরজমিনে গিয়ে দেখুন আমি কি অবস্থায় বসবাস করছি। এই ঝড়বাদলের দিনে আমার ঘরে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি নিজেও খুব অসুস্থ।বিশেষ করে আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যাতে আমার এই শেষ বয়সে অন্তত মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই করে দেন।'
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধি পেয়ে ৫১
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ তাসলিমা আলী বলেন, 'মুক্তিযোদ্ধা সলেমান শেখের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে তিনি যদি আমার কাছে লিখিত কোনো অভিযোগ করেন আমি অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
ইত্তেফাক/নূহু
