সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস থেকে রংপুর রাইডার্সে যাওয়ার খবর প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যে বিসিবি জানাল, এ দলবদল কার্যকর হবে না। কারণ, এবার দলগুলোতে বিসিবির সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। আর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ফ্রাঞ্চাইজিগুলো কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এ আরেক দফা আইন বদল সহজভাবে নিতে পারেননি এ টুর্নামেন্টের দুটি দলের হাই প্রোফাইল কোচ টম মুডি ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। তারা বলেছেন, বারবার এভাবে আইন বদলালে টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিই নষ্ট হয়।
৪ আগস্ট বিপিএলের এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম জানিয়ে দেন, যেহেতু দলগুলোর সঙ্গে বিসিবির নতুন চুক্তি হয়নি, তাই দলগুলো কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করলে সেটাকে বিসিবি স্বীকার করবে না। অবশ্য ফ্রাঞ্চাইজিগুলোতে ১১ মে বিসিবি থেকে একটা চিঠি পাঠিয়ে এবারের বিপিএলের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছিল বলে জানা গেছে।
২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সকে শিরোপা জেতানো মুডি বলছিলেন, এই ধরনের পরিবর্তন টুর্নামেন্টের সততা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশ্ন তৈরি করে, ‘গত ১২ বছর ধরে বহু টি-টোয়েন্টি লিগে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে এটা আমার কাছে পরিষ্কার যে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর জন্য যে আইন তৈরি হয় এবং প্লেয়িং কন্ডিশনে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। এটা শুধু ফ্রাঞ্চাইজি বা ম্যানেজমেন্টের জন্য জরুরি নয়। এটা সমর্থকদের জন্যও জরুরি। কারণ, তাদের বোঝা দরকার যে, তারা কোনো দেশি বা বিদেশি খেলোয়াড়দের অনুসরণ করবে। এটা একটা বিশ্বস্ত সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করে। আমরা যদি দেখি বারবার এ আইনগুলো পরিবর্তন হচ্ছে, তাহলে টুর্নামেন্টের সততা নিয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠবে।’
২০১৭ সাল থেকে খুলনা টাইটান্সের দায়িত্বে থাকা জয়াবর্ধনে বলছিলেন, এ ধরনের ঘন ঘন পরিবর্তন দলগুলোর জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। তিনি বলছিলেন, ‘দলগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা খুব জরুরি। আমি মনে করি, আপনি যখন প্রতি বছর আইন বদলান, এমনকি টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায়ও আইন বদলান, সেটা ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জন্য মোটেও স্বাস্থ্যকর কিছু না। আপনি যদি বিশ্বের অন্য টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর দিকে দেখেন, তারা সবসময় একটা নির্দিষ্ট আইনে স্থিতিশীল থাকে। এ আইন ফ্রাঞ্চাইজিসহ সবাইকে পরিচালিত করে।’
