চট্টগ্রামে বোরো ধানের এক-তৃতীয়াংশ কাটা শেষ, বাকি ধান নিয়ে আশঙ্কা

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ০৪:৩১

প্রিল শেষের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার তিনটি স্থানে পাহাড়ি ঢলে পাকা বোরো ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে অন্যান্য উপজেলা থেকে  যত্সামান্য ক্ষতির খবর মিলেছে। আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ব্যাপকভাবে পাহাড়ি ঢল না নামায় ফসল বেঁচে গেছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা জানান।

এরই মধ্যে জেলার ১৫টি উপজেলায় স্থান ভেদে ২০ শতাংশ থেকে ২৬ শতাংশ ফসল কাটা হয়ে গেছে। যা মোট আবাদ হওয়া বোরো ধানের এক-তৃতীয়াংশ। কৃষকরা জানান, এপ্রিলের শেষ নাগাদ চট্টগ্রামে এমন রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণ গত ক’ বছরে হয়নি। মৌসুমি বায়ু আসার আগে নদীসমূহে বায়ুচাপের আধিক্যসহ কাল বৈশাখীর প্রভাবে যেটুকু বৃষ্টি হয়েছে তাতে চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও প্রবল পাহাড়ি ঢলের উপক্রমও হয়েছিল। তারও আগে চট্টগ্রামের কৃষকরা বোরো ফসল কাটতে শুরু করেন ২৩/২৪ এপ্রিল থেকে। বৃষ্টি ক্রমশঃ কমে আসলে কৃষকরা স্বস্তি নিয়ে ফসল কাটায় আবারও নেমে আসেন। ফসল কাটা চলবে মধ্য মে মাস বা মে মাসের শেষ সপ্তাহ  পর্যন্ত। ঝড়-বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাষ থাকায় কৃষকদের মন থেকে এখনো  প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দূর হয়নি।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ব্যাপক হারে ফসল নষ্ট হওয়ার কোনো সংবাদ আসেনি। ফলে এ বছর বোরো ধান উত্পাদনে অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা বহাল আছে। 

চট্টগ্রামে বোরো ধান উত্পাদনে শীর্ষস্থানীয় উপজেলা বাঁশখালীর কৃষি কর্মকর্তা শ্যামলচন্দ্র সরকার ইত্তেফাককে বলেন, বিগত ১০ দিন আগে থেকেই বাঁশখালীতে পাকা বোরো ফসল কাটা শুরু হয়েছে। মাঝখানে ভারী বৃষ্টিপাতসহ ঝড় বজ্রপাত হয়ে গেলেও কোথাও ফসলহানির ঘটনা ঘটেনি। টার্গেট ছিল এ বছর বাঁশখালীতে ১১ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করার। কিন্তু চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১০ হেক্টর। কি পরিমাণ চাল এর থেকে পাওয়া যাবে তা বলা যাবে আরো কিছুদিন পর পুরো মাঠের ফসল কৃষকদের ঘরে ওঠে মাড়াই শেষ হওয়ার পর।

চট্টগ্রামে বোরো ধান উত্পাদনে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানীয় দুই উপজেলার অন্যতম একটি হচ্ছে পাহাড়ের কোলঘেষা সমতল ফটিকছড়ি উপজেলা। ফটিকছড়ির কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেহ ইত্তেফাককে বলেন, এপ্রিল শেষের ভারী বর্ষণে বোরো ফসলের যত্যামান্য ক্ষতি হয়েছে। ফসল কাটা শেষ হতে এখনো ১০/১৫ দিন সময় রয়ে গেছে। তাই এখনই সব সবকিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ফটিকছড়ির কৃষক সাধারণ এ পর্যন্ত পাকা ধানের ২৩ শতাংশ কেটে ঘরে নিরাপদে তুলেছেন। তিনি বলেন, এ উপজেলায় বোরো আবাদে টার্গেট ছিল ৮ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমি, কিন্তু তা বেড়ে আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে।

দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডার বলে খ্যাত রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গুমাইবিলসহ তিনটি স্থানে এপ্রিলের ভারী বর্ষণে বোরো ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। রাঙ্গুনিয়ার কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস ইত্তেফাককে বলেন, ভারী বর্ষণে গুমাই বিলের ব্রহ্মোত্তর এলাকা, পদুয়া ইউনিয়ন এবং কোদালা ইউনিয়নের বোরো ফসলের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া শস্যভাণ্ডার গুমাইবিলসহ সর্বত্র এ পর্যন্ত ২৬ শতাংশ পাকা বোরো ফসল কেটে ঘরে তুলেছেন কৃষকগণ। এখানকার বিস্তীর্ণ মাঠে ফসল কাটা আরো ১২-১৩ দিন চলবে। এখানে আনুষ্ঠানিক ধানকাটা শুরু হয়েছে গত ২১ এপ্রিল। রাঙ্গুনিয়ায় এবছর ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে।

 
ইত্তেফাক/এএম