জমে উঠেছে গাবুড়ার টমেটো বাজার, ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ১১:২০

জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের সবচেয়ে বড় গ্রীষ্মকালীন টমেটোর বাজার দিনাজপুর সদর উপজেলার গাবুড়া। শুরুতেই এবার ভালো দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকরা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং ঢাকার বাজারে দাম তুলনামূলক কম থাকায় চলতি বাজার অনুযায়ী লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

দেশের সবচেয়ে বড় টমেটোর এই বাজারে কৃষকরা বিভিন্ন এলাকা থেকে টমেটো নিয়ে আসেন। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু হওয়া টমেটোর হাট চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। কৃষকরা খেত থেকে টমেটো সংগ্রহ করে খাঁচায় সাজিয়ে সাইকেল, ভ্যানে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে এই হাটে। পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে এসব টমেটো কিনে তা বাছাই করে বাক্স করে ট্রাক বোছাই করে নিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতিদিন এই বাজার থেকে টমেটো নিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ৫০-৬০টি ট্রাক।

শরীয়তপুর থেকে আগত টমেটো ব্যবসায়ী করিম সওদাগর জানান, চলতি বছরে মূলত কৃষকরাই বেশি লাভবান হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এখান থেকে তুলনামূলক বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছি, কিন্তু ঢাকার বাজারে গিয়ে সেগুলো প্রত্যাশিত দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখছেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের মুখে পড়ছেন।’ তার মতে, পরিবহনসংকট এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। এই বাড়তি খরচ ব্যবসায়ীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

পক্ষান্তরে এবার তুলনামূলক ভালো দাম পেয়ে খুশি টমেটো চাষিরা। সদর উপজেলার নয়নপুর এলাকার কৃষক জিয়াউল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ও দাম দুটিই সন্তোষজনক। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতি মণ টমেটো ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি।’ একই ধরনের কথা জানান কৃষক বলরাম রায়। বর্তমানে বাজারে বিপুল প্লাস ও বিউটি জাতের টমেটো প্রতি মণ ১ হাজার টাকায় এবং আনসাল জাতের টমেটো ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে জেলায় ৮৬৫ হেক্টর জমিতে ৩৬ হাজার ১৮ মেট্রিক টন টমেটো উত্পাদিত হয়েছিল। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৮ হেক্টর জমিতে, যেখানে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ১৩৭ মেট্রিক টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার ফলেই এবার চাষাবাদের জমির পরিমাণ বেড়েছে। আমরা আশা করছি, প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪১.৬৪ টন উত্পাদন হবে।’

তিনি আরো জানান যে, বর্তমানে ফসল উত্তোলন কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমির ফসল উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট জমির ফসল ধাপে ধাপে মাঠ থেকে তোলা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএম