১২ আগস্ট পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এদিনে ইমানদারের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে ঈদের নামাজ পড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় কোরবানি করা। কোরবানি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে-ই হতে হবে। কোরবানি ১০, ১১ ও ১২ জিলহজের যে কোনো দিন করা যাবে। তবে প্রথম দিন কোরবানি করা উত্তম। কোরবানি যেমন আল্লাহর বিধান; তেমনি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও ইসলামের বিধান। এজন্যই মানবতার মুক্তিদূত রহমাতুল্লিল আলামিন মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ইমানের অঙ্গ বলে উল্লেখ করেছেন। নবিজি ইরশাদ ফারমান—‘পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ।’ (সহিহ্ মুসলিম)
কোরবানি দেওয়া ও গোস্ত বণ্টন করাই কোরবানিদাতার শেষ কর্তব্য নয়; তার আরো কর্তব্য হচ্ছে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা। কোরবানিদাতা যদি কোরবানির বর্জ্য অপসারণ না করেন, এ বর্জ্যের দুর্গন্ধে যদি পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের চলাফেরায় কষ্ট হয় বা মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে তা হবে বিশ্বনবি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স)-এর সুন্নাহবিরোধী; যা গোনাহের শামিল। কোনো মুমিন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দিয়ে জান্নাতে যেতে পারবে না। রাসুল (স) স্পষ্ট বলেছেন— ‘যার কষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে জান্নাতে যাবে না।’ (সহিহ্ মুসলিম) আবি শুরাইহি রাযি. থেকে বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে—নবি পাক (স) বলেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি ইমানদার নয়। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! সে ব্যক্তি কে? নবিজি বললেন, ‘যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।’ বুখারির অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ইমানের অন্যতম দাবি হচ্ছে প্রতিবেশীকে সুরক্ষা দেওয়া। রাসুলে পাক (স) ইরশাদ ফারমান— ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ইমান রাখে ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।’
কোরবানি একটি সাওয়াবের কাজ। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, মানুষকে কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করাও ইমানের দাবি। তাই আমাদের প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে যাতে করে কোরবানির সঙ্গে সঙ্গে কোরবানির পশুর রক্ত ও উচ্ছিষ্ট অংশ যেমন- হাড়গোড়, শিং, কান, গোবর ইত্যাদি অপসারণ করা যায়। এজন্য আমরা কোরবানির পরপর রক্ত ধুয়ে ফেলব, পলিথিনে গোবর ও উচ্ছিষ্ট অংশ সংরক্ষণ করে নিরাপদ স্থানে রেখে দেব, যাতে পরবর্তীতে পরিচ্ছন্নকর্মীরা তা সহজে বহন করতে পারেন। গ্রামাঞ্চলে মাটিতে পুঁতে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে; তাই কোরবানির পশুর বর্জ্য ও উচ্ছিষ্ট অংশ তত্ক্ষণাত্ মাটিতে পুঁতে রাখতে হবে। যেই স্থানে কোরবানির পশু জবাই ও ছোলা-কাটা করা হবে, কাজ শেষে সে স্থানকে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিতে হবে। কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট অংশ ও বর্জ্য কোনোভাবেই ড্রেনে ফেলা যাবে না, এতে তা পচে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশ দূষিত করবে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানোর পর তা কোনো গাছে বা ওপরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে; এতে চামড়া যেমন নিরাপদ থাকবে, তেমনি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে। চামড়া বিক্রি করতে দেরি হলে লবণ মেখে রাখতে হবে। কোরবানির পশু নিরাপদ স্থানে জবাই করতে হবে। মানুষ চলাচলের রাস্তায় বা এমন কোনো জায়গায় জবাই করা যাবে না, যাতে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটে। মোটকথা— কোরবানিদাতাকে কোরবানির পশু জবাইয়ের আগ থেকে শুরু করে জবাই শেষে বর্জ্য অপসারণ পর্যন্ত পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া ইমানের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। কেউ রাস্তায় আবর্জনা ফেলে গেলে সে গোনাহগার হবে; কিন্তু যারা তা সরিয়ে দিবেন, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও পুরস্কার প্রাপ্ত হবেন। সহিহ্ বুখারির এক বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলে পাক (স) বলেন, ‘এক ব্যক্তি রাস্তায় চলতে চলতে একটি কাটাওয়ালা ডাল দেখতে পেল, সে ডালটিকে সরিয়ে দিল। আল্লাহ তার এ কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাকে জান্নাত দান করেন।’
lলেখক : মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও খতিব, জাজিরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
