সাপুড়ে না হয়েও নদীবেষ্টিত এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিষধর সাপ ধরে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা পাড়ের বাসিন্দা সোহেল প্রধান। পেশায় অটোরিকশা চালক হলেও লোকালয়ে বিষধর সাপ এলে ডাক পড়ে তার।
মূলত উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের নদীর তীরে বসবাস করা সোহেল সম্প্রতি কামড় খেয়েও বিষধর ও সবচেয়ে আক্রমণাত্মক সাপ রাসেল ভাইপার ধরে আলোচনায় আসেন। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু রাসেলস ভাইপার নয়। গত এক দশক ধরে কারো বাড়িতে সাপ ঢুকলেই ডাক পড়ে সোহেলের। নদীবেষ্টিত ওই এলাকায় গত ১০ বছরে বিপুল পরিমাণ সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন সোহেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে রাসেল ভাইপারের কামড় খেয়ে সাপটি ধরে চাঁদপুর হাসপাতালে ছুটে যান সোহেল। তারপরে তিনি জেলা সদর চাঁদপুরের হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টিভেনম নিয়ে দিনে দিনেই বাড়ি ফেরেন। ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয়দের মাঝে জোরালো আলোচনায় আসেন সোহেল।
সোহেল প্রধান জানান, স্থানীয় মেঘনার পাড়ে বাড়ি হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরার জন্য নদীতে কারেন্টজাল ও চাই পাতার (পুঁতার) অভ্যাস ছিল তার। তাই সাধারণ সাপ ধরার অভ্যাস তার ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠে। এভাবে সাধারণ সাপ ধরতে ধরতে একসময় বিষধর সাপ ধরার অভ্যাসও হয়ে যায় তার।
সাপুড়ে না হয়েও সাপ ধরার এক দশকের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানান, সাম্প্রতিক বিষধর সাপ বেশি ধরা পড়ছে। বিশেষ করে রাসেল ভাইপার। মানুষজন সাপ দেখে ভয় পেলেও সাপ ধরতে ভালো লাগে তার। তার চেয়ে ভালো লাগে সাপের কামড় থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পেরে। বেশ কিছুদিন আগে প্রবাসে গিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রবাস জীবন ভালো না লাগায় দেশে ফিরে এসে শুরু করেন অটোরিকশা চালানো।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মুন্না ঢালী বলেন, সোহেল একজন মানবিক মানুষ। মানুষের বিপদ আপদে ছুটে যান। কোথাও বিষধর সাপের উপদ্রপ বেশি হলে তার ডাক পড়ে।
উপজেলার সহকারী ফরেস্টার হাবিবুল্লাহ ফরাজী বলেন, সোহেল প্রধান খুবই সাহসী মানুষ। লোকালয়ে কোন বিষধর সাপ ঢুকে পড়লে তিনি সেই সাপটিকে ধরে সাধারণ মানুষকে সাপের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন। গত ৯ মে সবচেয়ে ভয়ংকর রাসেলস ভাইপার ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে সে।

