রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে এক তরুণকে গাছে বেঁধে পেটানোর মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরেক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামি হলেন, নগরের কাজলা এলাকার বাসিন্দা মুহিনকে (১৮) এবং থানা থেকে ছাড়া পাওয়া যুবকের নাম আলী হাসান মো. মুজাহিদ। সে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিল। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাদের উভয়কে পৃথক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে মতিহার থানার পুলিশ।
রাজশাহী নগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, মামলার এজাহারে আসামি আলী হাসান মো. মুজাহিদের নাম থাকলেও প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকার বিষয়টি বিবেচনায় তাকে থানা থেকে ‘জামিন’ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া তাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তার আসামি মুজাহিদকে জামিনে মুক্তির প্রসঙ্গে আরএমপির মুখপাত্র আরও বলেন, ‘মামলার কোনো আসামিকে জামিন দিতে পারেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। আইনে ওসিকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটি পুলিশের এখতিয়ার।’
আরএমপির মুখপাত্র জানান, গ্রেপ্তার অপর আসামি মুহিনকে মঙ্গলবার (১২ মে) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দিয়েছেন। পলাতক অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত রোববার রাজশাহী নগরের কাজলা বিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা তুষারকে চুরির অভিযোগ তুলে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মারধরের সময় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ওই ঘটনায় সোমবার রাতে তুষারের (২২) বাবা নাজির আলী বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলাটি করেন। এতে মোট পাঁচ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়। মুহিন ও ছাড়া ওই আসামি ছাড়া অন্যরা হলেন—শামীম (৫৫), হৃদয় (২২) ও আশিক (২২)। তারা সবাই পলাতক। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগে করা হয়েছে, ‘গত শনিবার রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন বাড়িতে গিয়ে তুষারের খোঁজ করেন। এ সময় তুষার বাড়ি নেই বলে জানান তার বাবা নাজির আলী। তখন ‘তুষারকে পেলে সবকিছু বোঝানো হবে’ বলে হুমকি দেন অভিযুক্তরা। এমনকি কোনো ধরনের তদবির না করার কথাও বলে যান তারা।
পরদিন রোববার সকালে হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে আগের দিন খোঁজার কারণ জানতে চান তুষার। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।

