কাশ্মীরে কারফিউ অব্যাহত রাতে প্রতিবাদ, নিহত ৬

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০১৯, ২২:৪৫

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কারফিউ অব্যাহত আছে। ইন্টারনেট, মোবাইল ফোনও বন্ধ। দোকানপাট, বাজার ও এটিএম বন্ধ। অনেককে অনাহারেই কাটাতে হচ্ছে। আবার অনেককে নিজের বাগানে উত্পাদিত সবজি খেয়ে জীবন বাঁচাতে হচ্ছে। উপত্যকায় ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তান গতকাল দুই দেশের মধ্যে চলা ট্রেন সার্ভিস সমঝোতা এক্সপ্রেস আটকে রাখার পর ছেড়ে দেয়। এদিকে হাইকমিশনারকে বহিষ্কার ও বাণিজ্য স্থগিত নিয়ে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহবান জানিয়েছে ভারত। জাতিসংঘ কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীর মুক্তির দাবিতে আদালতে গেছেন এক সমাজকর্মী। নোবেল বিজয়ী মালালা কাশ্মীরে শান্তি বজায় রাখতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।রাতে প্রতিবাদ, নিহত ৬

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাস্তাঘাট ফাঁকা। কেউ দিনে গাড়ি নিয়ে বের হলে সেনাবাহিনী আটকাচ্ছে। রাতের দিকে প্রহরা কম। লোকজন রাত ১০টার পর বাইরে যাচ্ছেন। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রতিবাদ হচ্ছে। সেনাবাহিনী পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। শহরে হাসপাতাল সংলগ্ন ওষুধের দোকানগুলো খোলা, নার্সিংহোম ও হাসপাতালে গেলে চিকিত্সা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যাওয়ার উপায় নেই। কারণ, গাড়ি চলতে পারছেন না। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। টিভিতে ডিশ সংযোগ দেওয়া হলেও খবরের চ্যানেল নেই। যাদের বাড়িতে স্যাটেলাইট টিভি আছে কেবল তারাই খবরের চ্যানেল দেখতে পাচ্ছেন। পাকিস্তানের জিও টিভি জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ভারত সরকার কিংবা কোনো মিডিয়ার পক্ষ থেকে নিহতের বিষয়টি জানানো হয়নি। যদিও বুধবার পুলিশের তাড়া খেয়ে একজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল এনডিটিভি।

সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান ভারতের

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান বুধবার ভারতের হাইকমিশনারকে বহিষ্কার এবং বাণিজ্য স্থগিত করেছিল। গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আমরা দেখেছি পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি আশঙ্কাজনক ছবি ফুটিয়ে তুলছে। আর ৩৭০ ধারা বাতিল ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। পাকিস্তানকে এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করতে বলেছে ভারত, যেন কূটনৈতিক যোগাযোগের স্বাভাবিক পথটা খোলা থাকে।

উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে চিঠি লিখেছেন। গতকাল জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মুখপাত্র জানান, কাশ্মীরে নেতাদের আটক রাখা, টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা বন্ধ রাখা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপরে নিষেধাজ্ঞায় তারা উদ্বিগ্ন। মুখপাত্র বলেন, ওই অঞ্চল থেকে প্রায় কোনো তথ্যই বাইরে আসছে না। এটাই যথেষ্ট উদ্বেগের।

সুপ্রিম কোর্টে আরেক সমাজকর্মী

উপত্যকার অধিকাংশ স্থানে মোবাইল এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন সমাজকর্মী তেহসিন পুনাওয়ালা। এই মামলার জরুরি শুনানি চেয়ে পুনাওয়ালা সোমবার গ্রেফতার হওয়া সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আব্দুল্লাহের মুক্তির আদেশ দিতেও শীর্ষ আদালতকে অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার এমএল শর্মা নামের এক আইনজীবীর ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে আবেদনের দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

‘শিশুদের স্বার্থে শান্তি চাই’

গতকাল কাশ্মীরের শিশুদের ভবিষ্যত্ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবেদন রাখলেন, শান্তিপূর্ণভাবে যেন কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের পথে হাঁটে ভারত। নিজের টুইটে তিনি লেখেন, আমার শৈশব কেটেছে এই অশান্তি দেখেই। কেবল আমার নয়, সাত দশক ধরে কাশ্মীরের ছেলেমেয়েরা হিংসার মধ্যেই বড়ো হয়েছে। এই উপত্যকায় ১৮ লাখ মানুষের মতো আমাদেরও ঘরবাড়ি। আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচতে চাই।

সমঝোতা এক্সপ্রেস আটকে দিল ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের লাহোর থেকে আসার সময় সমঝোতা এক্সপ্রেসের যাত্রীরা দুপুর একটা থেকে ওয়াঘা সীমান্তে আটকা পড়েন। কারণ ঐ ট্রেনের পাকিস্তান কর্মীরা ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত সেটিকে নিয়ে যেতে অস্বীকার করেন। যদিও সমঝোতা এক্সপ্রেসের ভারতীয় কর্মীরা দাবি করেন, ঐ ট্রেনটিকে সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে এলে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডে চালিয়ে নিয়ে যাবেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ট্রেনটি অট্রারির উদ্দেশ্যে চালিয়ে আসেন ভারতের রেল কর্মীরা। পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যতদিন আমি রেলমন্ত্রী থাকব, সমঝোতা এক্সপ্রেস আর চলতে দেব না।