নড়াইল সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি অতি জরুরিভাবে শিশু ওয়ার্ডসহ হাসপাতালের বিকল যন্ত্রপাতি সচল করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, বিলের কথা চিন্তা করতে হবে না। আগে মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে। ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু নিয়ে ক্রাইসিস চলছে। এর প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাশরাফি বিন মর্তুজা ব্যক্তিগত অর্থে ডেঙ্গু শনাক্তকরণে নড়াইল সদর হাসপাতাল এবং লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ হাজার ৫০টি কিট প্রদান করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সদর হাসপাতালে ১৫ জন এবং লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আট জনসহ মোট ২৩ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিত্সাধীন রয়েছে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ৯ জন এবং লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ৪৭, লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ এবং কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জনসহ মোট ৬২ জন ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
পরে সদর হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে মাশরাফি বিন মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার মোহম্মদ জসিম উদ্দিন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পৌর মেয়র মো. জাহাঙ্গির হোসেন বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. মো. আসাদ উজ জামান মুন্সি, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডা. মো. আব্দুস শাকুর, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বাবু প্রমুখ। এ সময় সংশ্লিষ্ট কমিটির কর্মকর্তা এবং হাসপাতালের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপি হাসপাতালের রোগীদের জন্য চলমান খাবার পরিবেশনের টেন্ডার বাতিলের আদেশ দিয়ে নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে (ধোপা) হাসপাতালের কাপড় পরিষ্কার বন্ধ করে হাসপাতালে দুজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে কাপড় পরিষ্কারের সুপারিশ করেন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, হাসপাতালে খাবারের মান নিম্নমানের। এ ছাড়া, হাসপাতালের বেডশিটসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাপড় পরিষ্কারবাবদ প্রতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো বিল হলেও কাপড় ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। এ বিষয়গুলো এমপির নজরে আসায় তিনি এসব সুপারিশ দেন।
