ফতুল্লায় একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় বেতন বোনাসের দাবীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। এসময় শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের উপর ইট পাটকেল ছুড়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে পুলিশ ৪৫ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখন পুলিশের ১০ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হন।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় জাজ অ্যাপারেল গার্মেন্টসের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক সামছুল ইসলাম জানান, পাঁচ মাসের ওভারটাইম ও দুই মাসের বকেয়া বেতন চাইলে মালিকপক্ষ দেই-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। আজ বিকেলে বকেয়া বেতন চাইলে দুই শ্রমিককে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে মালিক পক্ষের লোকজন মারধর করে। এনিয়ে প্রতিবাদ জানাতে কারখানার পাঁচ শতাধিক শ্রমিক লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে পুলিশ এসে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে। তখন কিছু শ্রমিক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে।
জাজ অ্যাপারেলের এজিএম আবুল কালাম আজাদ জানান, শ্রমিকদের অভিযোগ মিথ্যা। তারা চলতি মাসের বেতন পাবে আর ঈদ বোনাস। এতে মালিক পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এখন মাস শেষ হয়নি তাই অর্ধেক মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস দেয়া হবে। কিন্তু শ্রমিকরা তা না মেনে কারখানায় ভাংচুর করে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের নানা ভাবে চেষ্টা করা হয়েছে সড়ক থেকে নেমে গিয়ে কারখানার সামনে অবস্থান করার জন্য। কিন্তু তারা কিছুতেই পুলিশের কথা না শুনে উল্টো বৃষ্টির মত ইট পাটকেল ছুড়ে ১০ জন পুলিশ সদস্যকে আহত করেছে। এসময় পুলিশ ৪৪ রাউন্ড শর্ট গানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মাসুদুর রহমান জানান, শিল্প পুলিশ এক রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও পাঁচ রাউন্ডের মত গ্যাস গানের গুলি ছুড়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পরে মালিক পক্ষ সকল শ্রমিকদের কারখানায় ডেকে নিয়ে পুরো মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস দিয়ে দিয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর
