বিদায়ের আগে দুটি ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন কমিশনার

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০১:০০

বত্রিশ বছরের কর্মজীবনের সাড়ে চার বছর আছাদুজ্জামান মিয়া ছিলেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে থেকে অনেক সাফল্যের দেখা যেমন পেয়েছেন, তেমনি ব্যর্থতাও ছিল। আর পাঁচ দিন পর, আগামী ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাবেন। তার আগে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষবারের মতো গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন সাফল্য-ব্যর্থতার কথা। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত বিদায়ি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে সফলতা যদি কিছু থাকে সেটি আমি বলব, আমার যে টিম ডিএমপি, ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্যকে দেশের জন্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে জনগণের নিরাপত্তা বিধান করার জন্য এক সূত্রে রেখে কাজ করা সেটি আমার বড়ো সফলতা।

জঙ্গি দমনে আমাদের সাফল্য দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে এবং এটি রোল মডেল হিসেবে সারা বিশ্ব নিয়েছে। আমরা একটি অনন্য কাজ করেছি, ভাড়াটিয়াদের ডেটাবেজ তৈরি করেছি। এ মুহূর্তে প্রায় ৭২ লাখ নাগরিকের ডেটাবেজ আমাদের সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিআইএমএস) আছে। এই ডেটাবেজের কারণে কোনো সন্ত্রাসী, অপরাধী পরিচয় গোপন করে ঢাকা শহরে লুকিয়ে থেকে অপরাধ করতে পারছে না।

ঢাকার পুলিশ প্রধান হিসেবে নিজের দুইটি ব্যর্থতার কথাও বলেন আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ব্যর্থতার কথা যদি বলি, অকপটে বলব জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যে একটি ব্যবধান, এটি আমরা অনেক কমিয়ে এনেছি। কিন্তু এখানে আমরা শতভাগ সফল হইনি। থানায় মানুষ যে ধরনের সেবা পায়। সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য শতভাগ আমরা পূর্ণ করতে পারিনি। দ্বিতীয় আরেকটি ব্যর্থতার কথা বলব, ঢাকা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং একটি যানজটমুক্ত শহর করতে পারিনি। তবে এর দায় পুলিশের একার নয় বলে মনে করেন তিনি।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পুলিশকে ব্যবহারের যে অভিযোগ, সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আছাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। দেশের সংবিধান এবং ক্রিমিনাল ল’ এর বিধান অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করে থাকে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ আমার কর্মকালের সময় কোনো কাজ করেছে, এমন কোনো সত্যতা নেই, এগুলো যারা বলে, তা বিভ্রান্তিমূলক, উদ্দেশ্যমূলক। তিনি বলেন, আমরা যখন আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি, কেউ অবরোধ করেছে, আগুন দিয়েছে, মানুষের ওপর চড়াও হয়েছে, বোমা ছুড়েছে। এসব নৈরাজ্যমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করার দৃশ্যমান দায়িত্ব সংবিধান ও ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোড আমাদের ওপর ন্যস্ত করেছে।