আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বরিশালে “উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ অনুশীলন” শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার আলেকান্দা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এবং জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার কারিগরি সহায়তা ও নরওয়ে সরকারের আর্থিক অনুদানে পরিচালিত “বাংলাদেশে প্লাস্টিকের টেকসই ব্যবহার এবং সামুদ্রিক আবর্জনা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ” প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা, গৃহস্থালি পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্যের টেকসই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়। এতে ৩০০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ নারী। এছাড়া শিশু, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশালের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “প্লাস্টিক বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। প্লাস্টিক দূষণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে এবং মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।”
তিনি স্থানীয় নদ-নদী, খাল-বিল ও সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়িতে দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উৎস থেকেই বর্জ্য আলাদা করার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশালের সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে গৃহস্থালি পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, উৎস থেকে বর্জ্য আলাদা করা সম্ভব হলে দেশে প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিডো বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর সত্য ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, “প্লাস্টিক বর্জ্য যাতে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য উৎস থেকে বর্জ্য পৃথকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রিসাইক্লিং উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাও নিশ্চিত করে।”
তিনি জানান, ইউনিডো সম্পদ-দক্ষ ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি রিসাইক্লিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো উন্নয়নেও সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে বরিশালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের আরও সক্রিয়ভাবে এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামান খান এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিডি ক্লিন বরিশাল শাখার উপদেষ্টা ড. মো. খোরশেদ আলম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আলেকান্দা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রকিবুল ইসলাম, ইউনিডো বাংলাদেশের শাহিদুল ইসলাম সিয়াম, বিসমিল্লাহ প্লাস্টিক অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের স্বত্বাধিকারী নাজমুন নাহার রিনা এবং বিডি ক্লিন বরিশালের স্বেচ্ছাসেবকরা।
আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের শপথ গ্রহণ করেন। পরে স্মারক হিসেবে প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর মাঝে প্লাস্টিক ও নন-প্লাস্টিক বর্জ্য আলাদা করার জন্য বিশেষায়িত ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশীজনদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
উল্লেখ্য, এ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকরা গত ১৮ মে থেকে আলেকান্দা এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ বিষয়ে সচেতনতা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে।
