ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে মহড়া চালাচ্ছে রাশিয়া। এই মহড়ায় সাগর ও ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। সপ্তাহ দুই আগে কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরকে সংযুক্তকারী কার্চ প্রণালিতে ইউক্রেনের জাহাজ ও নাবিকদের রুশ বাহিনীর আটক করা নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে এখনো উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মহড়ার জন্য ওই অঞ্চলে রস্টভ-অন-ডন বি-২৩৭ ও স্টেরি অস্কল বি-২৬২ নামের দুটি সাবমেরিন জরুরি মোতায়েন করা হয়েছে। রকেট ফায়ারের মাধ্যমে সমুদ্র বা উপকূলীয় লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্তকরণ ও ধ্বংস করার জন্যই এ মহড়া চালানো হচ্ছে। এছাড়া সাবমেরিনের নাবিকদেরও ‘ডিপ ড্রাইভ’ এবং জরুরি ভাসা বা ‘ইমার্জেন্সি সারফেসিংয়ের’ কৌশল অনুশীলনের কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে মহড়াটি শুরু বা শেষ হওয়ার তারিখ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। উপকূলবর্তী দেশ তুরস্কের নৌবাহিনীর এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে ৩ থেকে ৯ ডিসেম্বর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে এ মহড়া চলবে। মহড়াটি কৃষ্ণসাগর ও ক্রিমিয়া উপদ্বীপে শুরু হওয়া বড় আকারের মহড়ার অংশ কি-না, সেই বিষয়েও কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
গত ২৫ নভেম্বর কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরকে সংযুক্তকারী কার্চ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইউক্রেনের তিনটি জাহাজ ও ২৪ জন নাবিককে আটক করে রুশ সেনারা। এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকাতে ইউক্রেনের ১০টি অঞ্চলে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সামরিক আইন জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পেত্রো পরোশেঙ্কো। আর রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনের জাহাজ অবৈধভাবে তাদের সীমানায় প্রবেশ করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার উত্তেজনা মহড়া চলছে।
