এসএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি-২০২০

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৫৯

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক

হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর

 

                                                                                                                                                      

 

 

 

 

সুপ্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমরা মনোযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় পড়বে। তাহলে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও জ্ঞান আর অনুধাবনমূলক প্রশ্নে কোনো সমস্যা হবে না আশাকরি। যদি অধ্যায়গুলো বোঝে বোঝে পড় তবে সৃজনশীল অংশে যে উদ্দীপক দেয়া থাকবে তার আলোকে তোমরা যুক্তিসঙ্গত উত্তর গুছিয়ে লিখতে পারবে। তোমরা সব সময় প্রতিটি বিষয় অনুশীলন করো।

চারটি কন্যা সন্তানের জন্মগ্রহণ করার পর পুত্র সন্তানের আশায় সফিউদ্দীন দ্বিতীয় বিয়ে করলেন। এ পরিবারে আরও দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হলো।

ক) তথ্য অধিকার আইন কত সালে জারি হয় ?                                                                                                                                                                                      খ) জঙ্গিবাদ বলতে কী বোঝায় ?                    

গ) উদ্দীপকের সফিউদ্দীনের পরিবারের ধরণ ব্যাখ্যা

করো।                                                                                                      ঘ) সামাজিক বিশৃঙ্খলার জন্য কি সফিউদ্দীনকে দায়ী করা যায় ? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।                                                                          

 ক) উত্তর : তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল জারি হয়।

 খ) উত্তর : যারা নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণ বা কোনো রাজনৈতিক ধারণা প্রতিষ্ঠায় চরম ও হিংসাত্মক পন্থার আশ্রয় নেয় বা আক্রমণাত্মক উপায়ে রাষ্ট্র বা সমাজ অনুমোদিত নয় কোন সংস্কারের সমর্থনে সমবেতভাবে কাজ করে তাদেরকে জঙ্গি বলে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কিত অনুমোদিত নয় বা পরিপন্থীমূলক নীতিই জঙ্গি নীতি। জঙ্গির দ্বারা রচিত এবং প্রচারকৃত ধ্যান ধারণাই জঙ্গিবাদ নামে পরিচিত। বিশ্বের কোনো গোষ্ঠীর চেতনা থেকে জঙ্গিবাদ জন্ম নিতে পারে। দেশের মধ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যেও জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির পেছনে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকায়িত থাকতে পারে।

গ) উত্তর : উদ্দীপকের সফিউদ্দীনের পরিবারে দুজন স্ত্রী রয়েছে। পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে এটি বহুপত্নিক পরিবার। বহুপত্নিক পরিবারে একজন পুরুষের সাথে একাধিক নারীর বিবাহ হতে পারে। এ ধরনের পরিবারে মূলত একজন পুরুষের একই সময়ে একাধিক স্ত্রী বর্তমান থাকে। কুসংস্কারে আচ্ছন্ন পুরুষের মধ্যে বহু বিবাহের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। আবার কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করার জন্য স্ত্রীর কোন ভূমিকা না  থাকলেও সফিউদ্দীনের সিদ্ধান্তেরই প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। স্বামী-স্ত্রীর কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে স্বামীর একক কর্তৃত্ব এখানে লক্ষণীয়। এ থেকে বোঝা যায়, পরিবারটি পিতৃ প্রধান বা পিতৃতান্ত্রিক পরিবার। আবার আকারের ভিত্তিতে একে অনু পরিবারও বলা যায়। অর্থাত্ পরিবারটি হলো বহুপত্নিক ,পিতৃতান্ত্রিক এবং একক একটি পরিবার।

ঘ) উত্তর : আমি মনে করি, সামাজিক বিশৃঙ্খলার জন্য সফিউদ্দীনকে দায়ী করা যায়। কেননা এক স্ত্রী বর্তমানে কোনো সঙ্গত কারণ ব্যতীত দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করা অনৈতিক ও বেআইনি। এতে পারিবারিক সম্পর্ক শিথিল হয় আবার কখনো তা ভেঙ্গে যায়। সামাজিক বিশৃঙ্খলা হলো সামাজিক অনাচার। অর্থাত্ সামাজিক বিশৃঙ্খলা হলো এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস বিঘ্নিত হয়। সমাজে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। সামাজিক বিশৃঙ্খলার ফলে সামাজিক নৈরাজ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে। উদ্দীপকের সফিউদ্দীনের প্রথম স্ত্রীর চারটি কন্যা সন্তানের জন্মগ্রহণ করার পর পুত্র সন্তানের আশায় সফিউদ্দীন দ্বিতীয় বিয়ে করলেন। কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পিছনে তার স্ত্রীর কোনো ক্ষমতা বা ভূমিকা নেই। বরং বৈজ্ঞানিকভাবে এটি প্রমাণিত যে , কন্যা সন্তান বা পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য স্বামীই প্রধানত দায়ী। স্বামীর দায় এভাবে স্ত্রীকে বহন করতে দিলে তা সামাজিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি করে। সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস কমে যায় এবং পারিবারিক সম্পর্ক শিথিল হয়ে পড়ে। স্ত্রীর মধ্যে এক ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে এবং মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এরূপ সম্পকর্ সন্তানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সন্তানদের আর্থসামাজিক , মনো-দৈহিক বিকাশ এবং উন্নয়নকে ব্যাহত করবে , যা তাদের সামাজিক ভূমিকাকে সংকুচিত করবে। এরূপ পরিস্থিতি সামাজিক অনাচার বৃদ্ধি করবে। তাই এক্ষেত্রে সফিউদ্দীনকে সামাজিক বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করা যেতে পারে।