পাবনা-সিরাজগঞ্জের ডেইরি শিল্প টার্গেট করে উচ্চ ফলনশীল নেপিয়ার ঘাস চাষে লাভবান হচ্ছেন পাবনার চাষিরা। স্বল্প খরচে অল্প সময়েই বিক্রির উপযোগী এ ঘাস গবাদিপশুরও পছন্দের, তাই বাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এদিকে কোরবানির পশুর হাটে সরগরম হয়ে উঠেছে নেপিয়ার ঘাসের বাজার। পাবনার বেড়া উপজেলার দুগ্ধ খামারি হারুন অর রশিদ জানান, দুগ্ধ উত্পাদন বৃদ্ধিতে গবাদিপশুকে কাঁচা ঘাস খাওয়ানো খুবই প্রয়োজন। নেপিয়ার ঘাস গরু, ছাগল, মহিষসহ সব ধরনের গবাদিপশুরই খুব পছন্দের। অন্যান্য গোখাদ্যের চেয়ে দামও তুলানমূলক কম। তাই এখন খামারিরা বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে ঘাস আবাদ করে। গরুর খামার বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন কৃষকরাও বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন।
পাবনা-সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে সারাবছরই ব্যাপক চাহিদা নেপিয়ার ঘাসের। উঁচু নিচু যেকোনো জমি এমন কী মহাসড়কের পাশের ফাঁকা জায়গায়ও এখন বাতাসে দোলা দেয় এ ঘাসের সবুজ পাতা। ধান কিংবা অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভের অঙ্কের পার্থক্যটাও বেশ। তাই কৃষকের আগ্রহে বাড়ছে আবাদ।
ফরিদপুর উপজেলার নেপিয়ার ঘাস চাষি মমিন মন্ডল জানান, একবিঘা জমিতে ধান আবাদ করে যেখানে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়, সেই একই জমিতে নেপিয়ার ঘাস আবাদে কমপক্ষে ৩৬ থেকে ৪০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আবাদে খরচ ও ঝুঁকি অনেক কম। পাবনার বনগ্রাম, হাজিরহাট, পুষ্পপাড়া, টেবুনিয়া, অরনখোলা ও বেড়া চতুরহাটে ঘুরে দেখ গেছে, গরুর হাটেই আলাদাভাবে বসেছে নেপিয়ার ঘাসের বাজার। কোরবানির পশু ক্রেতারা পশু কিনে ফেরার পথে ঢুকছেন ঘাসের বাজারেও। সাধারণত প্রতি আঁটি দশ থেকে পনের টাকা দরে বিক্রি হলেও, বন্যার ক্ষতি ও কোরবানি ঈদে চাহিদা বাড়ায় বাজারে প্রতি আঁটি ঘাস বিক্রি হচ্ছে পঁচিশ থেকে চল্লিশ টাকায়।
পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন হোসেন মন্ডল বলেন, চলতি বছর পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, চাটমোহর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, পোতাজিয়া, উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমিতে নেপিয়ার ঘাসের আবাদ হয়েছে। এ ঘাস খুবই পুষ্টিগুণসম্পন্ন। এতে গবাদিপশুর দুধ ও মাংস দুটোই বাড়ে। লাভ ভালো হওয়ায় কৃষক ও খামারি পর্যায়ে এ ঘাসের চাষাবাদ বাড়ছে।
