‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ওষুধ পাচ্ছে না ইরানিরা’

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:৫৪

বিবিসি

চিকিত্সা সামগ্রী বিশেষ ছাড় পাওয়ার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছে না ইরানিরা। তবে ওয়াশিংটন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের জন্য মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান হুক বলেছেন, ‘ইরানের জনগণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ ও চিকিত্সা সামগ্রী নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রেখেছে।’ যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলছেন, ফার্মাসিউটিক্যালসের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে। কারণ, ওষুধ কিনতে আর্থিক লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

প্রয়োজনীয় প্রায় সব মৌলিক ওষুধই ইরান নিজে উত্পাদন করে । কিন্তু যখন অ্যাডভান্সড মেডিসিনের প্রসঙ্গ আসে তখন দেশটিকে আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হয়। এক হিসেবে দেখা যায়, ইরানের প্রয়োজনীয় ওষুধের চার শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘ওষুধটি পেতে আমাকে অন্য কয়েকটি শহরের ফার্মেসিগুলোতে খোঁজ করতে হয়েছে। কয়েকটিতে সেটি পাওয়া গেলেও দাম এত বেশি, যা আমার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।’

ইরানের অভ্যন্তরে একজন ওষুধ আমদানিকারকের সঙ্গেও কথা বলেছে বিবিসি। তিনি বলেন, গত দুই বছরে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং দামও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে অচেতন করা, ক্যানসার চিকিত্সা ও ডায়াবেটিসের ওষুধ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। ইরান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে স্বাস্থ্য ও মেডিক্যাল সেবার খরচ বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

ইরানের সঙ্গে বিশ্বশক্তিগুলোর পরমাণু চুক্তির পর ২০১৬ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে আবার যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে যা কার্যকর হয় শিল্প ও ব্যাংক খাতে। নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য পদ্ধতিই ওষুধ আমদানি কঠিন করে তুলেছে। এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে ও দাম বেড়ে যাচ্ছে ইরানের বাজারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে ইউরোপীয়রা সহায়তার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তার দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে ইরান। যদিও এটি রাজনৈতিকভাবে আসলেই কঠিন। ইউকে ফিন্যান্সের পরিচালক জাস্টিন ওয়াকার বলছেন, ‘মানবিক সেবার বাণিজ্য ও পেমেন্ট ইরানের সত্যিই জটিল বিষয়।’ তবে ওষুধের মতো মানবিক সরবরাহ এবং এসবের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো শাস্তির আওতায় থাকা উচিত নয়।