আলোকপাত

ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩২

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

ডেঙ্গু একটি মারণঘাতী রোগে রূপ নিয়েছে। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমবেশি দেখা দেয়। কিন্তু ২০১৯ সালের বর্ষাকালের শুরুতেই এ যেন এক মহামারি রূপ ধারণ করতে চলেছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে নতুন নতুন রোগাক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু এবং আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। খবরে কখনো কখনো প্রকাশ পাচ্ছে প্রতি মিনিটে একজন করে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু সকল পরিসংখ্যানকেই এখন ছাড়িয়ে গেছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে স্বয়ং চিকিত্সকসহ দেশ জুড়ে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, বিষয়টি দিন দিন জনমনে শুধু আতঙ্কই সৃষ্টি করে চলেছে।  

আমরা যদি আমাদের আশপাশের প্রতিবেশি কয়েকটি দেশের কিছু পরিসংখ্যান দেখি, সেখানে দেখা যাবে সেসব দেশেও বাংলাদেশ থেকে প্রাদুর্ভাবের দিক দিয়ে কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অতি প্রাচীন কলকাতা শহরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হলেও তারা তা সহজেই মোকাবিলা করে ফেলেছে। এখানে অভিজ্ঞতা ও পূর্ব প্রস্তুতি একটি বড়ো ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। আশার কথা, এরইমধ্যে দেখা গেছে ঢাকার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তাদের সফলতার সহায়তা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখন যদিও ডেঙ্গু সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু প্রথমদিকে শুধু রাজাধানী ঢাকা শহরেই এর ব্যাপ্তি সীমাবদ্ধ ছিল।

কার্যকর মশা নাশক ওষুধ কেন এখনো আমাদের সংগ্রহে নেই, সেটাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আবার রাস্তাঘাটে ওষুধ স্প্রে করা,  ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা, জনগণকে সচেতন করা ইত্যাদির জন্য হয়তো নাগরিকের মৌলিক সেবা হিসেবে নগরপিতাকেই ভুক্তভোগীরা দায়ী করবেন। কিন্তু আপনার-আমার বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি, ময়লা আবর্জনা এবং এডিস মশার উর্বর স্থান সৃষ্টিতে বাধা দেওয়া কিন্তু আবার সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালার ওপরেই বর্তাবে। আবার এডিস মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেটাও আপনাকে কিংবা আমাকেই নিতে হবে। অন্যদিকে যদি কেউ রোগাক্রান্ত হয়েই পড়ে সেক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার হিসেবে তার চিকিত্সাব্যবস্থা রাষ্ট্রকেই সমন্বয় করতে হবে। আশা করি, রাষ্ট্র সাফল্যজনকভাবেই সেই কাজটি করে চলেছে এবং শেষ পর্যন্তও করে যাবে।

এটি নিসন্দেহে একটি জাতীয় দুর্যোগ। কাজেই আমরা এ দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সবাইকেই দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে সম্মিলিতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদিও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিদেশে সফরে ছিলেন, তার পরও তিনি সেখান থেকেই ভিডিও কনফারেন্স করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন। কাজেই অতীতে যেমন যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার সামাল দিয়েছে এবারেও এর ব্যতিক্রম হবে না ইনশাল্লাহ।  

n লেখক :কৃষিবিদ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার,

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়