আওয়ামী লীগ ও জামায়াত— দুই দলের বিরুদ্ধেই গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে: ইশরাক

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ২২:৫৭

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে এক বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত ইসলামী—এই দুই দলের বিরুদ্ধেই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বাঙালি জাতিকে নির্বিচারে গণহত্যার সুনির্দিষ্ট ও কলঙ্কজনক অভিযোগ রয়েছে, তাই রাজনৈতিকভাবে এরা আসলে একই জিনিস।

বুধবার (৩ জুন) নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে দেশের মানুষের ওপর কোনো গণহত্যার অভিযোগ নেই। পক্ষান্তরে, একাত্তরে জামায়াত এবং চব্বিশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্পষ্ট গণহত্যার প্রমাণ আছে। এই দুই অপশক্তি একই সূত্রে গাঁথা, তাই দেশ ও জাতির স্বার্থে এদের বিষয়ে আমাদের সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধাবাদী চরিত্রের তীব্র সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের একটি বিশেষ দল (আওয়ামী লীগ) সুদীর্ঘকাল ধরে মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ফায়দা লুটেছে। অন্যদিকে, আরেকটি দল (জামায়াত) ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানকে সম্পূর্ণ নিজেদের একক অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে নতুন করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার নোংরা প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।

তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানেও দেশের বহু বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা বুক টান করে রাজপথে দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এবং ফ্যাসিবাদ পতনের লড়াই সফল করতে ফ্যাসিবাদের বুলেটের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে; এই সত্যটি আমাদের কখনোই ভুলে গেলে চলবে না।

আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশের বীর সন্তানদের ‘সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান’ দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই তরুণ সদস্য হুংকার দিয়ে বলেন, ‘যদি কেউ স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কথা বলে, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করে কিংবা একাত্তরের গৌরবময় ইতিহাসকে অসম্মান ও অস্বীকার করার দুঃসাহস দেখায়—তবে তাদের রাজপথেই কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের নীল নকশায় গোটা জাতিকে চরমভাবে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছিল। আমরা চাই দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর দেশে আর যেন কোনো কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করা না হয়। এই ক্ষতিকর বিভক্তি চিরতরে দূর করে পুরো দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে একটি সুখী, বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধশালী এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

ইত্তেফাক/এএম