দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আদালতের রায়ে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে গিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম লিটন মণ্ডল (৪০)। তিনি নবাবগঞ্জ উপজেলার চককরিম গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। পরিবারের দাবি, পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, গুলিতে নয়, দুই পক্ষের সংঘর্ষে লিটন নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে চককরিম গ্রামের ৮ বিঘা জমির মালিকানা নিয়ে একই এলাকার রফিক উদ্দিন ও লিটন মণ্ডলের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই জমির মালিকানা নিয়ে দায়ের করা মামলায় সম্প্রতি রফিক উদ্দিনের পক্ষে রায় দেন আদালত।
শনিবার দুপুরে আদালতের রায়ে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে যায় পুলিশ। এ সময় রফিক উদ্দিন ও লিটন মণ্ডলের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় সংঘর্ষে আহত হয় প্রায় ১৫ জন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৭ জনকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তাদের মধ্যে লিটন মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, তার শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার মাসুদ রানা গুলিতে নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ময়না তদন্তে বিষয়টি সুস্পষ্ট বোঝা যাবে বলে তিনি জানান। এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ছয়জন। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে ভর্তি আছেন সাজু মণ্ডল (২০), সাহানুর রহমান (৩৫) ও খোরশেদ আলম (২২)। আর মারামারিতে আহত হয়ে ভর্তি আছেন বিলকিস (৪০), মনোয়ারা (৬০), মঞ্জুরুল ইসলাম (৩৫)।
আরও পড়ুন: সালিশে বক্তব্যে বাধা দেওয়ায় সংঘর্ষ, আহত ৪০, ২৫ দোকান ও ১০ গাড়ি ভাংচুর
নিহত লিটনের ভাই জোনাব আলী বলেন, পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে লিটন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলে তাকে প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার রেজাউল করিম উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে দিনাজপুরের কর্তব্যরত চিকিৎসক লিটনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সুব্রত কুমার সরকার বলেন, পুলিশের গুলিতে নয়, প্রতিপক্ষের হামলায় লিটন নিহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের নাজির, জারিকারকসহ ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়নি।
ইত্তেফাক/অনি
