সিএনএন

ইরান যুদ্ধের সময় আজারবাইজানে ইসরায়েলের গোপন অভিযান

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১৬:৪১

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আজারবাইজানে গোপন অভিযান চালাতে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ডজন ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্য ও মোসাদ এজেন্টকে আজারবাইজান-ইরান সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা যায়। এসব অবস্থানের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজ শহর থেকে প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দূরের এলাকাও ছিল।

সিএনএনের তথ্যমতে, শুরুতে এই বাহিনীর দায়িত্ব ছিল ইরানের আকাশসীমায় কোনো ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা। পরে তাদের কার্যক্রমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ড্রোন অভিযানও যুক্ত করা হয়। এতে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্পেশাল অপারেশনস ডিভিশনের কমান্ডার রহমান মোকাদ্দামকে হত্যা করা হয়।

মোকাদ্দাম ইরানের ভেতরে ও বাইরে অপারেটিভ নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ পশ্চিমা সামরিক স্থাপনা, বন্দর এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা ইসরায়েলি জাহাজ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজও তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।

তবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আজারবাইজানের দূতাবাস সিএনএনকে জানিয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’।

এদিকে, সিএনএনের সূত্রগুলো দাবি করেছে, ইরানে অভিযানে যাওয়া ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহের সুবিধার্থে সোমালিল্যান্ডেও একটি সামরিক অবস্থান গড়ে তুলেছিল ইসরায়েল।

এর আগে গত মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য ইরাকে দুটি গোপন ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ইত্তেফাক/এমএএম