সেতু আছে, নেই সংযোগ সড়ক

কোটি টাকার সেতুতে উঠতে লাগে বাঁশের সাঁকো

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ২১:২০

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কয়েকটি গ্রামের ১০ সহস্রাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বাঘাইয়াকান্দী-কালীপুরা এলাকায় নির্মিত সেতুটিতে উঠতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের, যা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রসুলপুর জিসি-কালীপুরা ভায়া ইমামপুর সড়কে ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম দফায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ৬ হাজার ৩৫ টাকা ব্যয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটি সেতুর পাইল, অ্যাবাটমেন্ট, পিয়ার ক্যাপ ও ওয়াল নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। সম্পন্ন কাজের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে প্রকল্পের ব্যয় সমন্বয় করে দ্বিতীয় দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬২ হাজার ৪১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে ওরিয়েন্ট ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবশিষ্ট কাজ সম্পন্নের দায়িত্ব পায়। টেন্ডার ও কার্যাদেশের কাজ মুন্সীগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সম্পন্ন করলেও প্রকল্প তদারকির দায়িত্ব রয়েছে গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ওপর। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৫ সালের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। তবে এখনো সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি।

সেতু এলাকায় জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান আছে এবং দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে
—সামিউল আরেফিন, গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী

গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নদী বা পানিপ্রবাহের ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে স্রোতের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি সমকোণে সেতু নির্মাণের বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম অনুসরণ করায় সেতুর পশ্চিম অংশের সংযোগ সড়ক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর পড়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজের সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বিভিন্ন সময় কাজ ব্যাহত হয়েছে।

সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। কম পরিমাণ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই এবং প্রয়োজন হলে পশ্চিম প্রান্তে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের ব্যয় যুক্ত করে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গজারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন বলেন, সেতু এলাকায় জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান আছে এবং দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসএএস