নোয়াখালীতে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার পর সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশারফ হোসেনের নির্দেশে শনিবার রাতে তাকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
ওসি তৌহিদুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি এর আগে ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শনিবার রাতেই তিনি সুধারাম থানায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি একই থানার ওসির দায়িত্বেও ছিলেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম ভট্টাচার্যকেও হাতিয়া থানায় বদলি করা হয়েছে। তার জায়গায় হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমানকে পদায়ন করা হয়েছে।
বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ওসি পরিবর্তনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ বা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ও জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি শেষে বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী খবর পান যে পাশের কালাদরাপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা আরেকটি মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে শ্রমিক দলের নেতা মো. হৃদয়, কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পাল্টা হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও ছাত্রদলের আরও কয়েকশ নেতা-কর্মী এলাকায় জড়ো হন। এ সময় চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

