বিধানসভা নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে এখন চরম অস্থিরতা। একদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, অন্যদিকে দলীয় কাউন্সিলরদের ওপর হামলার আশঙ্কা নিয়ে এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে দলটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার (৭ জুন) কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তবে শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি বাতিল করে দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল ভবন থেকে ইতিমধ্যে কাউন্সিলরদের কাছে বৈঠক বাতিলের নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কাউন্সিলররা তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন। অনেকেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় বৈঠকে আসতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।
এছাড়া গোয়েন্দা তথ্যে বলা হয়েছিল, ক্ষুব্ধ জনতা কাউন্সিলরদের উপর পচা ডিম কিংবা টমেটো ছুড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিতে চাননি মমতা।
তবে বৈঠক বাতিল হলেও পুরসভার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একদম গোপনে, শহরের কোনো নিরাপদ ও অজ্ঞাত স্থানে কাউন্সিলরদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে ডেকে নতুন মেয়রের নাম প্রস্তাব ও স্বাক্ষর সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শুক্রবার মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করার পর শনিবার সন্ধ্যায় নতুন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেএমসিকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার কেএমসি আইনের ১১৭(১) ধারা উল্লেখ করে জানতে চেয়েছে, মেয়রের পদত্যাগের পর কেন তৃণমূল নিয়ন্ত্রিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না।
ইতিমধ্যে ফিরহাদ হাকিমসহ মেয়র পরিষদের এক সদস্য ও কয়েকজন বোরো চেয়ারম্যানের পদত্যাগে বোর্ড গভীর সংকটে পড়েছে। এ নিয়ে কেএমসির চেয়ারপারসন মালা রায় এবং পৌর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক চলছে, যা আইনি জটিলতাও তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে কলকাতা পুরসভার অন্তত আটজন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই আগামীকাল সোমবার দিল্লিতে বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে শনিবারই দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সূত্র: ইটিভি ভারত

