গাইবান্ধায় পশুর হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩৮

গাইবান্ধার অধিকাংশ পশুরহাটে অতিরিক্ত টোল (হাসিল) আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি পশু বিক্রেতাদের কাছেও অবৈধভাবে টোল (হাসিল) নেওয়া হচ্ছে। ফলে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এদিকে প্রতিটি হাটে টোল (হাসিল) আদায়ের মূল্য তালিকা টানানো বাধ্যতামূলক হলেও জেলার অধিকাংশ হাটে সেই তালিকা টানানো হয়নি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সরকারি হাট-বাজার সমূহের ব্যবস্থাপনা ও ইজারা প্রদানের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি গরু ও মহিষ সর্বোচ্চ চারশ টাকা ও প্রতিটি ছাগল ও ভেড়া সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা টোল (হাসিল) আদায়ের কথা। এছাড়া গবাদিপশুর ক্ষেত্রে কেবল ক্রেতারা টোল (হাসিল) দেবেন। এ সংক্রান্ত বিষয় তদারকি করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সূত্রটি আরও জানায়, জেলায় ১৪৮টি নিয়মিত হাট-বাজার রয়েছে। কিন্তু এ বছর জেলায় কতটি পশুর হাট আছে, সেই পরিসংখ্যান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি।  

গত দুইদিনে সরেজমিনে জেলার কয়েকটি পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত টোল (হাসিল) আদায়ের পাশাপাশি বিক্রেতাদের কাছেও হাসিল নেওয়া হচ্ছে। 

গত শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সদর হাটে ক্রেতা হামিদুর রহমান রফু অভিযোগ করে বলেন, এই হাটে পশু কেনা বেচার টোল (হাসিল) আদায়ের কোনো মূল্য তালিকা টানানো হয় নাই। ৮১ হাজার টাকা দিয়ে গরু কেনায় টোল (হাসিল) নেওয়া হলো ছয়শ টাকা, আর বিক্রেতার কাছে টোল নেওয়া হলো দুইশ টাকা। 

একই দৃশ্য চেখে পড়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর হাট, লক্ষ্মীপুর হাটে। এই দুই হাটের ইজারদার আয়ান মিয়া বলেন, আমাদের কোনো লোক সরকার নির্ধারিত হাসিল নিচ্ছে। অতিরিক্ত নিচ্ছেনা।

আরও পড়ুন: হিজড়াদের গাড়িতে ডাকাতি করে পাড় পেলনা ৪ ডাকাত    

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে হাসিল আদায়ের মূল্য তালিকা নেই। হাসিল নেওয়া হচ্ছে বেশি। এই হাটের ইজারাদার ফারুক মিয়া অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাটের ডেকোরেশনের জন্য খরচ হয়েছে। তাই বিক্রেতাদের কাছে একশ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। 

এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, অতিরিক্ত টোল (হাসিল) আদায়ের কোনো অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ইজারদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/অনি