ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও ২০১০ বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা।
ফুটবলের এই মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটি। বিশেষ করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা দর্শক-সমর্থকরা যাতে নির্বিঘ্নে স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে পারেন এবং নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
এরই অংশ হিসেবে মেক্সিকো সরকার রাজধানী মেক্সিকো সিটির সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের জন্য শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক বিবৃতিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম জানান, রাজধানীর ফেডারেল সরকারি কর্মীদের ১১ জুন বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচকে কেন্দ্র করে যানজট কমাতে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ এবং সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানগুলো মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নগরীর চলাচল ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। বিপুলসংখ্যক দর্শক, পর্যটক এবং আয়োজকদের যাতায়াতের কারণে রাজধানীতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই চাপ কমাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, জরুরি সেবা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনা এবং বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবে। তবে অন্যান্য ফেডারেল সংস্থাকে রাজধানীতে কর্মরত কর্মীদের জন্য দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা বা 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' চালু করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওই দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কর্মীদের জন্য নমনীয় বা দূরবর্তী কর্মব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

