ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও ২০১০ বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরে ৪৮টি দল ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিরোপার জন্য লড়াই করবে। প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে খেলার। ৪৮ দলের মোট ১২৪৮ জন ফুটবলার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে ইনজুরির কারণে অনেক তারকাকে 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত এই টুর্নামেন্টের বাইরে থাকতে হচ্ছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকজন-
রদ্রিগো (ব্রাজিল)
রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রদ্রিগো বিশ্বকাপে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে পুনরায় কাজ করার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মার্চে গেতাফের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে ডান পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি ল্যাটারাল মেনিস্কাসেও ক্ষতি হয়। ফলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয় এই তারকাকে।
হুগো একিতিকে (ফ্রান্স)
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পর ফ্রান্স একজন প্রকৃত স্ট্রাইকারের খোঁজে ছিল, যেখানে হুগো একিতিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উঠে আসেন। তবে লিভারপুলের হয়ে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে তার পায়ের পেশিতে ইনজুরি ধরা পড়ে। এতে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এই ফরাসি স্ট্রাইকারের।
ফারমিন লোপেজ (স্পেন)
বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে ফারমিন লোপেজ স্পেনের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার আশা করেছিলেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ১৩টি গোল ও ১৭টি অ্যাসিস্ট করেন এবং দলকে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিততে সাহায্য করেন। কিন্তু গত মাসে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে তার ডান পায়ের পঞ্চম মেটাটারসাল হাড় ভেঙে যায়। এতেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান এই স্প্যানিশ তারকা।
এস্তেভাও (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের উদীয়মান তারকা এস্তেভাও। কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে থাকার অন্যতম দাবিদার ছিলেন তিনি। আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের হয়ে শেষ ছয় ম্যাচে তিনি পাঁচটি গোল করেন। তবে এপ্রিল মাসে চেলসির হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান এবং পুরো মৌসুমের বাকি অংশ থেকে ছিটকে যান।
সার্জি গ্যানাব্রি (জার্মানি)
৫৯ ম্যাচে ২৬ গোল করা সার্জি গ্যানাব্রি জার্মানির বর্তমান সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিশ্বকাপে যাওয়ার পথে ছিলেন। কিন্তু এপ্রিল মাসে ডান পায়ের অ্যাডাক্টর পেশিতে চোট পান। এতে তিনি শুধু বায়ার্ন মিউনিখের বাকি মৌসুমই নয় বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে যান।
মাথিয়াস ডি লিট (নেদারল্যান্ডস)
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার মাথিয়াস ডি লিট মৌসুমের শুরুটা দারুণ করেছিলেন এবং ক্লাবের প্রথম ১৩টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচের প্রতিটি মিনিট খেলেছিলেন। কিন্তু পিঠের চোট তার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়। গত মাসে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং আগামী মৌসুমের শুরুর আগে ফেরার সম্ভাবনা নেই।
এস্তেভাও (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের উদীয়মান তারকা এস্তেভাও কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে থাকার অন্যতম দাবিদার ছিলেন। ব্রাজিলের হয়ে শেষ ছয় ম্যাচে তিনি পাঁচটি গোল করেন। তবে এপ্রিল মাসে চেলসির হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান এবং পুরো মৌসুমের বাকি অংশ থেকে ছিটকে যান।
কাওরু মিতোমা (জাপান)
জাপানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোর বাঁধা পেরোনোর স্বপ্নে বড় ধাক্কা লাগে যখন উইঙ্গার কাওরু মিতোমা ব্রাইটনের হয়ে উলভসের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন এবং বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান।
লেনার্ট কার্ল (জার্মানি)
বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার পর লেনার্ট কার্লকে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান দলে ডাকেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে অনুশীলনে ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় পেশিতে চোট পান। তার পরিবর্তে আরবি লিপজিগের আসান ওয়েদ্রাওগোকে দলে নেওয়া হয়েছে।
জাভি সিমন্স (নেদারল্যান্ডস)
টটেনহ্যাম হটস্পারের মিডফিল্ডার জাভি সিমন্সের মৌসুম শেষ হয়ে যায় এপ্রিল মাসে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে। ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ডান হাঁটুর লিগামেন্টের গুরুতর ইনজুরিতে পড়েন। অস্ত্রোপচারের কারণে তিনি নেদারল্যান্ডসের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না।
বিলি গিলমোর (স্কটল্যান্ড)
স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বিলি গিলমোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু কুরাসাওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ-পূর্ব শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় তিনি ফাইনাল পর্বে খেলতে পারবেন না।
জুরিয়েন টিম্বার (নেদারল্যান্ডস)
আর্সেনালের হয়ে জুরিয়েন টিম্বার দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছেন এবং ক্লাবকে ২২ বছরের মধ্যে প্রথম লিগ শিরোপা জিততে সাহায্য করেছেন। মৌসুমের বেশিরভাগ সময় তিনি নিয়মিত একাদশে ছিলেন, কিন্তু শেষ দিকে চোটে পড়ে মাঠের বাইরে চলে যান। ২৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার কুঁচকির চোট থেকে সময়মতো সেরে উঠতে না পারায় বিশ্বকাপ শুরুর তিন দিন আগে তাকে নেদারল্যান্ডস শিবির থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার বদলে সান্ডারল্যান্ডের লুটশারেল গিরত্রিদাকে দলে নেওয়া হয়েছে।
ওয়েসলি (ব্রাজিল)
মিশরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে উরুতে চোট পান এএস রোমার ব্রাজিলিয়ান রাইট-ব্যাক ওয়েসলি। ফলে বিশেষজ্ঞ রাইট-ব্যাক ছাড়াই বিশ্বকাপে অংশ নেবে সেলেসাওরা। তার পরিবর্তে আতালান্তার মিডফিল্ডার এডারসনকে দলে নেয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

