ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় এবং স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও ২০১০ বিশ্বকাপের আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য এক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আজতেকা’ স্টেডিয়াম। বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আসর আয়োজনের গৌরবময় রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে এই ভেন্যুটি।
ফুটবল ইতিহাসে মেক্সিকোর এই এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামটি একটি জীবন্ত উপাখ্যান। কেননা, এই স্টেডিয়ামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা দুই ফুটবলারের নাম। কতালীয়ভাবে, পেলে এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনা দুজনেই তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় বিশ্বকাপটি জয় করেছিলেন এই একই মাঠে।
এই মাঠে ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করে আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা ঐতিহাসিক মুহূর্তের মাধ্যমে ইংরেজদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে খেলার ৫৫ মিনিটে, যখন স্কোর গোলশূন্য, ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে একটি উঁচু বল দখলের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ম্যারাডোনা তার বাম হাত দিয়ে বলটি ঘুষি মেরে জালে জড়িয়ে দেন, যা দেখে ‘দ্য থ্রি লায়ন্স’-এর খেলোয়াড় এবং স্টাফরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন। রেফারি হ্যান্ডবলটি ধরতে পারেননি এবং গোলটি বহাল রাখেন।

কয়েক মিনিট পরেই, ম্যারাডোনা তার পায়ের জাদু দেখান; তিনি অসংখ্য খেলোয়াড়কে ড্রিবল করে কাটিয়ে সর্বকালের অন্যতম সেরা একটি একক গোল করেন।
এরপর আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছায় এবং ম্যারাডোনা ও তার দল মেক্সিকো সিটিতে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয় করে। অন্যদিকে, ১৯৭০ সালে এই মাঠেই ব্রাজিলকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পেলে।
সেই সব ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফুটবলের দুই প্রয়াত কিংবদন্তি পেলে এবং ম্যারাডোনাকে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হবে। আর্জেন্টিনার সংবাদপত্র ‘ক্লারিন’-এর বরাতে এমন খবর জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’।

