মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে সুস্থ, শিবির নেতা জিসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১৯:৩১

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহম্মেদ প্রধানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়ার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা জানান, জিসানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাকে সুস্থ বলে মত দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র প্রদান করে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন জিসানের স্বাস্থ্যগত অবস্থা মূল্যায়নের জন্য চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হেলালুর রহমান। এছাড়া বোর্ডে নিউরোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল হাসান, সাইকিয়াট্রি বিভাগের প্রধান ডা. মো. শাহেদুল ইসলাম এবং এনেস্থিসিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান মজুমদার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে জিসানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ উল্লেখ করা হলে হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন রাত থেকে জিসান নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তার চাচাতো ভাই দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ জুন রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

তবে কুমিল্লা জেলা পুলিশের দাবি, তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, জিসান স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপনে যান। পরে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ মামলায় জিসান ছাড়াও আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসজেএস