সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে সরকার, সরকারি প্রাথমিকে দিতে হবে না পরীক্ষার ফি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ২৩:৩৭

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার। ফলে এসব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আলাদা করে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষানীতি বজায় রাখা এবং অভিভাবকদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই সরকার এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নীতিগত অবস্থান রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাবেন।

শিক্ষা খাতে সাধারণ পরিবারের ব্যয় যতটা সম্ভব কমিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’ এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর ওপর পরীক্ষার ফির নামে নতুন করে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি না করার বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃতীয় শ্রেণির জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ টাকা হারে পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফি আদায়ের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে মৌখিক নির্দেশনার কথাও জানা গিয়েছিল।

সে সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, পরীক্ষা আয়োজনের জন্য অর্থের প্রয়োজন হলেও সরকারিভাবে তা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই আপাতত এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আর টাকা নেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

তবে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও সম্পূর্ণ অবৈতনিক হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের ওই ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়। তারা মত দেন যে, নির্ধারিত ফির অঙ্ক খুব বেশি না হলেও এটি অবৈতনিক শিক্ষানীতির মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই সমালোচনার প্রেক্ষাপটেই সরকার নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এল।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী। প্রাথমিক পর্যায়ে বছরে সাধারণত ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক—এই তিনটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

ইত্তেফাক/এনএন