ঈশ্বরদীতে কোরবানির মাংস ২৫০-৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৯, ০১:৫৩

শহরের রাস্তাঘাট-হাটবাজার ফাঁকা হলেও ঈশ্বরদীর মোড়ে মোড়ে বিকেল থেকে জমে উঠেছে কোরবানির মাংস বিক্রির দোকান। বিক্রেতারা কসাই বা ব্যবসায়ী নয়, সকলেই মৌসুমি। আর ক্রেতারা হলেন নিম্নবিত্তের মানুষ। যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই বা বাজার দরে মাংস কিনে খাওয়ার সামর্থ্য রাখেন না। গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত মাংস হাত পেতে যারা নিতে পারেন না, তারাই এই মাংসের ক্রেতা।

সোমবার বিকেল হতেই চলছে গরীব-দুঃখীর জন্য উৎসর্গকৃত মাংস বেচা-কেনার বাজার।  ঈশ্বরদী বাজার এলাকাসহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসে এসব অস্থায়ী মাংস বাজারে কেনাবেচা রাত ১০টা অবধি চলে।
ঈদের দিন সকাল থেকে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই মাংস সংগ্রহ করেছেন এসব বিক্রেতারা।  কেউ কেউ একদিনের কসাই হয়ে কাজ করে পেয়েছেন মাংস। কসাই সেজে টাকার বদলে মাংস নিয়েছেন। সংগৃহীত অল্প অল্প মাংস জমিয়ে ব্যাগে ভরে বেচতে এসেছেন। এরই মাঝে মধ্যস্বত্বভোগীও জুটে গেছে। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অল্প অল্প মাংস কিনে অস্থায়ী দোকানও খুলে বসেছেন। তারা চেয়ে আনা মাংস খাওয়ার জন্য কিছু রেখে  বাকিটা বিক্রি করে নগদ টাকা উপার্জন করছেন। অবশ্য এসব মানুষের বাড়িতে ফ্রিজ নেই। তাই জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রি করে দেন।

বিক্রি হওয়া এই মাংসগুলো মূলতঃ দানের হলেও রীতিমতো ব্যবসায় পরিণত হযেছে। নিম্নমানের মাংস বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। আর ভালো মাংসের ৩০০-৩৫০ টাকায়। ওজন না করে কেউ কেউ ব্যাগসমেত দাম হাঁকছে এক হাজার টাকা। মাংসের পরিমাণ ৩ কেজি বা একটু বেশি। ক্রেতারা ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে পরীক্ষা করছেন মাংসের কোয়ালিটি।

শুধু মাংস নয়, এসব বাজারে বিক্রি হচ্ছে ভূড়ি, পা, আস্ত মাথা বা মাথার মাংসও। কোরবানির মানসম্মত এসব মাংসের দাম বাজার দামের চেয়ে অনেক কম।

বিক্রেতা রিকশাচালক হেলাল জানান, ঈদের সারাদিন কোরবানির সংগ্রহ করা মাংস তিনি বিক্রি করছেন। বাড়িতে ফ্রিজ নেই। ক্রেতা মুস্তফা বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ, কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আবার মাংস দেওয়ার মতো কোন আত্মীয়-স্বজনও নেই। তাই এই বাজারের মাংস কিনে কোরবানির মাংস খাওয়ার সাধ মেটাবেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসা-বাড়ি ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

একদিনের মৌসুমি কসাই কবির জানান, কসাইয়ের কাজ করতে গিয়ে মজুরির পাশাপাশি প্রায় ৫ কেজির ওপরে মাংসও পেয়েছি। বাড়ি রাজাপুর এলাকায়।  রাত হয়ে গেছে, এতদূরে নিয়ে যাওয়াও মুশকিল।  বাড়িতে মানুষও ৪ জন। তাই বিক্রি করে কিছু ইনকাম করছি।

ইত্তেফাক/নূহু