ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহ

ফ্রান্সে প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু, ৫৪ অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ২৩:৪৪

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রাতের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটিতে প্রচণ্ড গরমে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তীব্র তাপদাহ থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামার পর ডুবে মারা গেছেন আরও অন্তত ৪০ জন।

এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের ৫৪টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ।

ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা ১৯৪৭ সাল থেকে তাপমাত্রার তথ্য রেকর্ড করে আসছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে দেশটির ৩০টি আবহাওয়া কেন্দ্রের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রাতের বেলার সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই ফ্রান্সে রাতের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বশেষ তাপপ্রবাহে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে।

প্যারিসে রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা মাথায় পর্যটকদের চলাচল। ছবি: এএফপি

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেন, এদিন দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আর পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বলেন, তাপপ্রবাহের সময় অননুমোদিত জায়গায় সাঁতার কাটাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ফ্রান্সে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। সিন নদীতে ডুবে সে মারা যায়। এ ছাড়া কার্পেনট্রাস শহরে রোদে তপ্ত একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে লিঁও শহরের কাছে রোন নদী থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক তরুণ ফুটবলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ইতালিতেও পরিস্থিতি নাজুক। রোম, মিলানসহ দেশটির ১৫টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তাপপ্রবাহের মধ্যে কৃষি ও নির্মাণশ্রমিকদের সুরক্ষায় ইতালি সরকার বিশেষ জরুরি শ্রম সুরক্ষা আইন আবার চালু করেছে, যাতে তাদের দিনের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়গুলোতে কাজ করতে না হয়।

জার্মানিতেও পানিতে ডুবে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। রাইন নদী থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্পেনেও গরমে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন মানুষ। দেশটির অপেক্ষাকৃত শীতল উত্তরাঞ্চলের শহর স্যান সেবাস্তিয়ানের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্পেনের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১০ বার তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। এর আগের ২৫ বছরে এমন ঘটনা ছিল মাত্র দুটি।

ফ্রান্সের প্যারিসে অসহ্য গরমে পানির ঝাপটায় কুকুরদের শরীর ভিজিয়ে দিচ্ছেন এক নারী। ছবি: এএফপি

এদিকে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার জানায়, চার দিনের একটি তাপপ্রবাহে দেশের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নেস বলেন, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে আবহাওয়ার একটি রূপ উত্তর আফ্রিকা, বিশেষ করে সাহারা মরুভূমি থেকে উষ্ণ বাতাস টেনে আনছে। এ কারণেই এত তীব্র গরম অনুভব হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ ও ঝড় দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

ইত্তেফাক/এমএস