ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকাকে ঘিরে ‘মেগা প্ল্যান’

এই পরিকল্পনায় নিয়োগ পাবে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১৫:৫৮

রাজধানী ঢাকাকে ভূমিকম্প সহনশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় এক লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের পাশাপাশি ৪৫০টি ‘অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট’ নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদারে ফায়ার সার্ভিস ও আবহাওয়া অধিদপ্তরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নবম আরবান ডায়ালগ-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ।

সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভূমিকম্প মোকাবিলায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্বেচ্ছাসেবী দুর্যোগের সময় ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে কাজ করবেন। তিনি জানান, পূর্বে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর একটি ডেটাবেইস থাকলেও তা হালনাগাদ না থাকায় নতুন করে ১৮ বছরের বেশি বয়সী তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রায় ৫০ হাজার ৫০০ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, উদ্ধারকাজ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দেওয়া হবে।

ভূমিকম্পের পর নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয় ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় ৪৫০টি স্থানকে ‘অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান সচিব। অনুমোদনের জন্য এ তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সশস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে থাকা ৫২ থেকে ৫৪ ধরনের ভারী যন্ত্রপাতির তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে থাকা হেলিকপ্টার এবং হাসপাতালগুলোর শয্যা সক্ষমতার তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দেশের নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। বিদ্যমান অবকাঠামোগত ঘাটতি এবং আর্থসামাজিক বৈষম্য দূর করতে সুপরিকল্পিত নগর উন্নয়নের বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা ঘোষ নগরায়ণের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক সেবার সম্প্রসারণ ঘটলে রাজধানীমুখী জনস্রোত কমবে এবং সুষম নগরায়ণ নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে জনবান্ধব নগরনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৬ দফা ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বস্তিবাসীসহ সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা, নগর এলাকায় তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় জাতীয় হিট অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন, কর্মজীবী মায়েদের জন্য এলাকাভিত্তিক চাইল্ড-কেয়ার হাব স্থাপন এবং বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

ইত্তেফাক/এমএএম