শিক্ষার্থীকে শাসন করায় স্কুলে অভিভাবকের হামলা, থানায় শিক্ষিকার মামলা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১৭:১৪

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে শাসন করাকে কেন্দ্র করে একটি কিন্ডারগার্টেনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক সহকারী শিক্ষিকাসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত এক শিক্ষিকার দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুড়লিয়া গ্রামের সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এই ঘটনা ঘটে।

আহত সহকারী শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বিদ্যালয় থেকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের মা ও বোনও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— উজ্জ্বল মাল, বাসিদ মাল, বাদশা মাল, লিপি খাতুন ও বর্ষা খাতুন। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মালকে সঙ্গে নিয়ে ৬-৭ জন লাঠিসোঁটা হাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে তার মা ও বোনকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মারধর করেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধমক দিয়ে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। এতে শিক্ষার্থীটি অপমানবোধ করে বাড়ি চলে যায়। পরে বেলা ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে এসে অধ্যক্ষকে খুঁজতে থাকেন।

এ সময় সহকারী শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী বাধা দিতে এগিয়ে এলে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বিদ্যালয় থেকে রাস্তায় টেনে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা বলেন, ‘বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উজ্জ্বল মাল বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করে আসছিলেন। কোনো না কোনো অজুহাতে তিনি প্রায়ই বিদ্যালয়ে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেন। এবার তার ভাগ্নি নিয়মিত স্কুলে না আসায় আমি তাকে শাসন করে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে বলি। কিন্তু বিষয়টি না বুঝেই তারা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকসহ আরও কয়েকজনের ওপর হামলা চালান।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না। তাই হামলার শিকার হইনি। এ ঘটনার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

আহত শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী বৃহস্পতিবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে লিখিত এজাহার দেন। পরে পুলিশ এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে।

এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অভিযুক্ত উজ্জ্বল মালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আহত শিক্ষিকার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে রাতেই মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির কারণে শাসন করাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

ইত্তেফাক/এপি