অবিলম্বে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৫৫

যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অবিলম্বে হ্রাস করার জন্য দেশের তেল বিক্রেতাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে যদি বিক্রেতারা পাম্পগুলোতে তেলের দাম না কমায় তবে আগামী দিনে তাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে।

সোমবার (২৯ জুন) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘পেট্রোলিয়াম বিক্রেতাদের অবশ্যই খুব দ্রুত তাদের তেলের দাম কমিয়ে আনতে হবে। বাজারে কোনো ধরনের অবৈধ মূল্যবৃদ্ধি বা অতিরিক্ত মুনাফা করা বরদাশত করা হবে না, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।’ 

তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে প্রতি গ্যালন তেলের দাম আড়াই ডলারের কাছাকাছি নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে এবং আমেরিকার মহান জনগণের স্বার্থে দ্রুত তেলের দাম কমাতে হবে।

নিজের রাজনৈতিক বিবৃতিতে ট্রাম্প বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সেখানে পেট্রোলের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর কমানোর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন যে খুব শিগগিরই সেখানে মূল পণ্যের চেয়ে করের পরিমাণ বেশি হয়ে যাবে যা মার্কিন প্রশাসন বা ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ মানুষ কেউই মেনে নেবে না। 

উল্লেখ্য যে ডেমোক্র্যাট দলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের জীবাশ্ম জ্বালানি বৃদ্ধির নীতির অন্যতম প্রধান সমালোচক হিসেবে পরিচিত এবং তিনি আগামী ২০ বছরের মধ্যে তার রাজ্যে কার্বন-মুক্ত বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন।

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে এবং ২০১৫ সালে বড় ধরনের তেল বিপর্যয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিতর্কিত তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর জন্য জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করেছে। এর পাশাপাশি গত ২৪ জুন ট্রাম্প মার্কিন বিচার বিভাগকে বড় বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ঠকানোর অভিযোগে সুনির্দিষ্ট তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আসন্ন নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে সাধারণ আমেরিকানদের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বাড়ায় ট্রাম্প দেশীয় রাজনীতিতে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। 

যদিও প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে এই সামরিক সংঘাত শেষ হলেই তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে আসবে, তবে দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ